প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ আবারও ঘটেছে, যা বাজার ও বাসস্ট্যান্ডের নামকরণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের ফলস্বরূপ। রোববার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের এই দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ চলতে থাকে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি দোকান ও ঘরবাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
গত ২৭ জুলাই একই বিরোধের কারণে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে মিরারচর গ্রামের মাসুদ মিয়া (৩৭) ও হিরণ মিয়া (৩২) নিহত হন। ওই ঘটনার এক মাসের মধ্যে ফের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন দুই গ্রামবাসী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কিশোরগঞ্জ-ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ড ও বাজারের নামকরণ নিয়ে আকবরনগর ও মিরারচরবাসীর মধ্যে কয়েক দশক ধরে বিরোধ চলে আসছে। যদিও কয়েক দফা সালিশ ও মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয়নি।
রোববার দুপুরে মিরারচরের কয়েকজন যুবক বাজারে গেলে তাদের মারধরের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে উভয়পক্ষ ইটপাটকেল, লাঠিসোঁটা, দা, বল্লম ও টেঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, র্যাব ও বিএনপির স্থানীয় নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েকটি টিয়ারগ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।
আহতদের মধ্যে নজরুল মিয়া (৩০), রানা মিয়া (১৯), তাহের মিয়া (৫০) ও স্বপন মিয়া (২৮) ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্য আহতরা বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন।
মিরারচরের খলিল মিয়া বলেন, ‘এক মাস আগে আমাদের পক্ষের দুইজনকে হত্যা করা হয়েছে। আজ আমাদের এলাকার দুই ছেলেকে মারধর করা হয়। আমরা প্রতিবাদ করতে গেলে হামলা করা হয়। পরে আমরাও প্রতিহত করি।’
অন্যদিকে আকবরনগরের সামাদ মিয়া জানান, তাদের পক্ষের কয়েকজন কিশোরগঞ্জ আদালতে জামিন নিতে গেলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর মিরারচরের লোকজন তাদের ওপর হামলা করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছেন। তারা প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ বলেন, ‘বাজারের নামকরণ নিয়ে আবারও দুই গ্রামবাসী আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। বিএনপির নেতাদের ও ভৈরব থানার ওসিকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি টিয়ারগ্যাসের শেল নিক্ষেপ করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন