প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নাটোরের লালপুরে উপজেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ আলী সংবাদ সম্মেলন করেছেন দলীয় কার্যালয়ে। তিনি সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, "খেলাকে কেন্দ্র করে আমি ভিলেজ পলিটিক্সের শিকার হয়েছি।”
স্থানীয় দলের নেতাকর্মীদের বাধার সম্মুখীন হয়ে তাকে স্থান ত্যাগ করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই দলের স্থানীয় নেতারা। বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার গোপালপুর রেলগেট এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
মারুফ আলী লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গত ২১ আগস্ট কেশবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘মিথ্যা ও ভুয়া’ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি আরও জানান, এর আগে ১৯ আগস্ট কেশবপুর গ্রামের গোরস্থানের জন্য সরকারি বরাদ্দের ৩৫টি গাছ ও পাঁচ বস্তা সারের হিসাব জানতে চাইলে গ্রামের প্রধান গোকুলের সঙ্গে তার বিরোধ দেখা দেয়।
মারুফ আলী অভিযোগ করেন, হিসাব জানতে চাইলে গোকুল তাকে বলেন, ‘তুমি কে, এসব হিসাব দেব’ এবং হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, পাঁচ বস্তা সারের মধ্যে এক বস্তা গোরস্থানে ব্যবহৃত হয়েছে, কিন্তু বাকি চার বস্তা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগের সমর্থনে কোনো নথি বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ করে মারুফ আলী বলেন, তাকে প্রধান বা বিশেষ অতিথি করার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও সত্য নয়।
তিনি বলেন, “যেখানে আমন্ত্রণপত্রে কোনো প্রধান অতিথি বা বিশেষ অতিথির নামই নেই, সেখানে আমি কীভাবে প্রধান অতিথি বা বিশেষ অতিথি হওয়ার দাবি করব? মূলত খেলাকে কেন্দ্র করে আমি ভিলেজ পলিটিক্সের শিকার হয়েছি।”
সংবাদ সম্মেলনে মারুফ আলী আরও অভিযোগ করেন, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান হারুন রশিদ পাপ্পু বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি দাবি করেন, জেলা ছাত্রদলের ওপরও বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। নিজের বহিষ্কারের প্রসঙ্গে মারুফ আলী জানান, গত ১৪ আগস্ট বাউয়েটের একটি অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শরমীন পুতুলের ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুস সালামের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। ওই সময় তাকে রাজনীতি করার সুযোগ না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
মারুফ আলী নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে জানান, ১৯৯৭ সালে বাবার কাঁধে চড়ে তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়। ছাত্রদলের রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি জীবনের সোনালি সময়, অর্থ-বিত্ত ও বিভিন্ন সুযোগ হারিয়েছেন বলেও দাবি করেন। তার ভাষ্য, বিগত সরকারের সময়ে শুধু ছাত্রদলের রাজনীতি করার কারণে তার ১৩টি সরকারি চাকরি হয়নি। মারুফ আলী আরও দাবি করেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত সংবাদকে ব্যবহার করে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলাম সৃজনকে ফোন করে তাকে বহিষ্কারের জন্য প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শরমীন পুতুল নির্দেশ দিয়েছেন-এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এতে প্রতিমন্ত্রীরও মানহানি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট ফজলুর রহমান পটলের মৃত্যুর পর রাজনৈতিকভাবে ফারজানা শরমীন পুতুলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তিনি দাবি করেন, প্রতিমন্ত্রী তাকে ছোট ভাইয়ের মতো দেখেন। বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আশাবাদ ব্যক্ত করে মারুফ আলী বলেন, তার বহিষ্কারের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনা করবেন বলে তিনি আশা করেন।
তবে মারুফ আলীর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
কেশবপুর গ্রামের প্রধান গোকুল বলেন, “মারুফ আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।” সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুস সালাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। তার সঙ্গে আমার কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক সম্পৃক্ততা নেই। তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য সংগঠন তাকে বহিষ্কার করেছে। এটি সঠিক সিদ্ধান্ত।”
এদিকে গোপালপুর পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম সুমন বলেন, দলীয় কার্যালয়টি সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনুপস্থিতির সুযোগে বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মারুফ আলী সেখানে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে তাকে সংবাদ সম্মেলন বন্ধ করে স্থান ত্যাগ করতে বলেন। এসময় তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন