প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে যে কেন্দ্রে ভোট দিয়ে আসছেন সাত গ্রামের মানুষ, সেই ভোটকেন্দ্র সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে। ভোটারদের সুবিধাজনক স্থান থেকে কেন্দ্র সরিয়ে দূরের একটি বিদ্যালয়ে নেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরকারি সিডস্টোর ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। এ সময় দীর্ঘদিনের বর্তমান ভোটকেন্দ্রটি বহাল রাখার দাবি জানান তারা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৩ সাল থেকে সরকারি সিডস্টোর ভবনটি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাতটি গ্রামের মাঝামাঝি অবস্থানে হওয়ায় কেন্দ্রটি নারী, বয়স্ক ও সাধারণ ভোটারদের জন্য সহজে যাতায়াতযোগ্য বলে দাবি স্থানীয়দের।
তবে সম্প্রতি বর্তমান কেন্দ্রটি সরিয়ে ৬ নম্বর ওয়ার্ডসংলগ্ন ফরাজীকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেওয়ার উদ্যোগের কথা জানতে পারেন তারা। এরপর থেকেই এর প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন স্থানীয়রা।
তাদের অভিযোগ, প্রস্তাবিত ফরাজীকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের একেবারে প্রান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। সেখানে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কোনো ভোটারের বসতবাড়িও নেই। ফলে কেন্দ্রটি সেখানে স্থানান্তর করা হলে সাত গ্রামের অনেক ভোটারকে আগের তুলনায় বেশি পথ পাড়ি দিয়ে ভোট দিতে যেতে হবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বেন নারী, বয়স্ক, অসুস্থ ও শারীরিকভাবে দুর্বল ভোটাররা। ভোটারদের যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘদিনের বর্তমান কেন্দ্রটি বহাল রাখার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধন ও অনশন কর্মসূচিতে আবুল বাশার, হেদায়েত খান, ফজেল হাওলাদার, সুমন ফরাজী, সাবিনা ও সুরভি সাহেদাসহ স্থানীয়রা বক্তব্য দেন। কর্মসূচিতে সাত গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন বলে দাবি আয়োজকদের।
এর আগে, কেন্দ্রটি বহাল রাখার দাবিতে গত ৩০ জুলাই মাদারীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকজন বাসিন্দা। আবেদনে তারা উল্লেখ করেন, সাতটি গ্রামের মাঝামাঝি হওয়ায় সরকারি সিডস্টোর ভবনটি ভোটারদের জন্য সুবিধাজনক। অন্যদিকে ফরাজীকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ওয়ার্ডের প্রান্তে হওয়ায় সেখানে কেন্দ্র স্থানান্তর করা হলে ভোটারদের যাতায়াতে ভোগান্তি বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে মাদারীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ বলেন, “এ বিষয়ে উভয় পক্ষের লোকজন আবেদন করেছেন। তাদের নিয়ে গণশুনানিও হয়েছে। শুনানিতে সন্তুষ্ট না হয়ে বিভাগীয় শহরে পুনরায় তদন্তের জন্য আবেদন করা হয়েছে।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন