প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) বিচারকের সই শেষে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ-হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্সের নথি হাইকোর্টে পাঠানোর কথা রয়েছে। তবে বিচারক এখনো মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে সই করেননি। গতকাল সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি জানিয়েছে।
গত রবিবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। সবশেষ সোমবার আসামি সোহেল ও স্বপ্নাকে কনডেম সেলে নেওয়া হয়েছে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেছেন, শিশু রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ ও বিভিন্ন স্থানে তাকে জখমের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আদালত আরও বলেছেন, স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের কোনো আবেদন না থাকায় বোঝা যায় যে, সোহেল রানা স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করেছেন। এদিকে, তার স্ত্রী স্বপ্না স্বামীকে পালাতে সহযোগিতা করেছেন।
গত ১ জুন আলোচিত মামলায় সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরদিন, ২ জুন, এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় এবং ওইদিনই মামলার ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এছাড়া ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে গত ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়। ফলে সবমিলিয়ে মাত্র ৪ কার্যদিবসে মামলাটির বিচারকাজ সম্পন্ন হয়।
রবিবার আলোচিত মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সেই সঙ্গে এই রায় ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা ঘর থেকে বের হয়। ওই সময় তাকে কৌশলে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন স্বপ্না। অন্যদিকে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে তিনি সোহেলের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান। পরে অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মাসহ অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর সেখানে সোহেলের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ পাওয়া যায় এবং একটি বড় বালতির মধ্যে তার কাটা মাথাটি দেখা যায়।
এরপর জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ কল পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তবে ঘটনার পর সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালাতে সক্ষম হলেও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় গত ২০ মে পল্লবী থানায় রামিসার বাবা মামলা করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন