প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ফলে ১০ জন পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারা অন্তর্ভুক্ত না করার বিষয়টি আদালতের দৃষ্টিতে এসেছে। এ ঘটনায় জামিনযোগ্য ধারায় মামলা রেকর্ড করার ক্ষেত্রে গুরুতর অবহেলার অভিযোগে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদারকে আদালতে তলব করা হয়েছে। ১০ জনের মামলা জামিনযোগ্য ধারায় রেকর্ড করার ঘটনাটি আদালত পাড়ায় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে উখিয়ার আমলি আদালতের বিচারক ও কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদ উদ্দিন মো. আসিফ এই আদেশ প্রদান করেন।
গত ১৭ অক্টোবর উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মেরিন ড্রাইভ সড়কের ইনানীর পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় রিসোর্ট থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণে এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছে। ওই রাতেই উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশিস সূত্রধর অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় রিসোর্টের একজন মালিক ও তিন ব্যবস্থাপকসহ মোট চারজনকে এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া রিসোর্টের ১৯ কর্মচারীকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার চার নম্বর আসামি, রিসোর্টের ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন সুমন (২৯), গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কক্সবাজার কারাগারে রয়েছেন। মঙ্গলবার তার রিমান্ড আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
মামলার এফআইআর, এজাহার ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ফায়ার লাইসেন্স ছিল না। রিসোর্টটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও জরুরি নির্গমন পথ (ফায়ার এক্সিট) ছিল না। ফলে আগুন লাগার পর পর্যটকরা বের হতে না পেরে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঘটনার পর দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩০৪-ক, ৩৩৮ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব ধারায় সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড। তবে অবহেলার মাত্রা ও ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারা অন্তর্ভুক্ত না করার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী সাইফুদ্দিন খালেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, "যে ঘটনায় ১০ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে সেই ঘটনার একটি এজাহার এমন তুচ্ছতাচ্ছিল্যভাবে রেকর্ড করা গুরুতর অপরাধজনক কাজ বলে মনে করছি। এমনকি ১০ জন মানুষের প্রাণহানির শাস্তি কি মাত্র ৫ বছরের কারাদণ্ড?"
নথিতে দেখা যায়, ১৭ অক্টোবর ৩০৪-ক, ৩৩৮ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। এর এক দিন পর, ১৯ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দ-বিধির ৩০৪ ধারা সংযোজনের আবেদন করেন। অথচ মামলা রেকর্ড করার সময় ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার ওই ধারাটি অন্তর্ভুক্ত করেননি। দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় অপরাধের ধরণ অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে সোমবার রাতে উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) কামাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, "এ ধরনের মামলার ঘটনা সচরাচর ঘটে না। তাই ভুলক্রমে মামলায় ৩০৪ ধারা উল্লেখ করা হয়নি। পরে ভুল বুঝতে পেরে ৩০৪ ধারা (অজামিন যোগ্য) সংযোজনের আবেদন করা হয় আদালতে। আদালত সেই আবেদন শুনানি করতে গিয়ে ওসিকে তদন্তের আদেশ দিয়েছেন।" অপরদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ পরিদর্শক (এসআই) রোমন ঘোষ জানান, "মামলার তদন্তের স্বার্থে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে যা করার, তাই করা হচ্ছে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন