প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আমদানির ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে আমদানির এলসির ডলারের দাম প্রায় ১ টাকা বেড়ে গেছে। গত ২৭ অক্টোবর আমদানির জন্য ডলারের সর্বোচ্চ মূল্য ছিল ১২৪ টাকা ১৮ পয়সা। মঙ্গলবার, এই মূল্য বেড়ে ১২৫ টাকায় পৌঁছেছে। এদিন খোলাবাজারে ডলারের দাম ১২৮ টাকা ২০ পয়সা পর্যন্ত উঠেছে।
ব্যাংকারদের মতে, জ্বালানি আমদানির দায় পরিশোধের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ডলারের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে রমজানকে সামনে রেখে পণ্য আমদানির এলসি খোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা ডলারের মূল্য বৃদ্ধির একটি কারণ।
ব্যাংকগুলোর ঘোষিত দরের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আজ জনতা ব্যাংকে ডলারের স্পট বিক্রয়মূল্য ১২৫ টাকা এবং ক্রয়মূল্য ১২৪ টাকা। গত ২৭ অক্টোবর এ দুই দর ছিল যথাক্রমে ১২৪ টাকা ও ১২৩ টাকা।
এদিন সোনালী ব্যাংকে ডলারের ক্রয়মূল্য ছিল ১২৩ টাকা ৭০ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১২৪ টাকা ৭০ পয়সা। ইস্টার্ন ব্যাংকে ডলারের বিক্রয়মূল্য ছিল ১২৪ টাকা ৬০ পয়সা এবং ক্রয়মূল্য ১২৩ টাকা ৬০ পয়সা।
সিটি ব্যাংক প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৪০ পয়সায় কিনে ১২৪ টাকা ৬০ পয়সায় বিক্রি করেছে। ব্র্যাক ব্যাংকে ডলারের ক্রয়মূল্য ছিল ১২৩ টাকা ৬০ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১২৪ টাকা ৬০ পয়সা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আজ আন্তব্যাংক বাজারে ডলারের গড় বিনিময় হার বেড়ে ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সায় পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্বস্তিদায়ক অবস্থায় থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে মাসের শেষ দিকে জ্বালানি আমদানির দায় পরিশোধে সরকারি পর্যায়ে অর্থের চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পায় এবং বিনিময় হারে সাময়িক ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও বলেন, রমজানকে কেন্দ্র করে এই সময়ে এলসি খোলার পরিমাণ আগের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। রমজানকেন্দ্রিক পণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখতে আগেভাগেই এলসি খোলা হয়ে থাকে, যাতে পণ্য সরবরাহে কোনো ঘাটতি না থাকে।
এদিকে, ডলারের বিনিময় হারে হঠাৎ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার বিষয়ে ব্যাংক নির্বাহীদের সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল সোমবার সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে বৈঠকে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এ সতর্কবার্তা প্রদান করেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যাংক নির্বাহী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের বেশির ভাগ ব্যাংকের ডলার ধারণক্ষমতা বা এনওপি (নিট ওপেন পজিশন) বর্তমানে ভালো অবস্থায় রয়েছে। বাজারে ডলারের সরবরাহেও খুব বেশি ঘাটতি নেই। বিপরীতে, ডলারের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবুও এক মাস ধরে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারের পাশাপাশি কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ব্যাংক নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে ডলার প্রবাহের এই চিত্র তুলে ধরে গভর্নর বলেন, ব্যাংকগুলোর এনওপি ইতিবাচক থাকার পরও ডলারের দাম এত বেশি হওয়ার কথা নয়। কোনো পক্ষ যাতে সংকটের অজুহাত দেখিয়ে ডলারের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন