প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘদিনের বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার ইরানের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত সকল প্রকার বাণিজ্য ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কেন এই অপেক্ষাকৃত আকস্মিক সিদ্ধান্ত? বিশ্লেষকরা বলছেন, এর পেছনে প্রধানত দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের সাম্প্রতিক হামলা। দ্বিতীয়ত, মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাল মেলানো। এই অবস্থার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তেহরানের ওপর নতুন করে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন।
আমিরাত বাস্তবে ইরানের আমদানির সবচেয়ে বড় উৎস হিসেবে পরিচিত। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইরানের মোট আমদানির প্রায় ৩১ শতাংশ (যার পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি ডলার) আসবে আমিরাত থেকে। তাছাড়া, দেশটি ইরানের রপ্তানির তৃতীয় বৃহত্তম গন্তব্য হিসেবেও পরিচিত।
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক কারেন ইয়াংয়ের মতে, যদি এই সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি কার্যকর হয়, তাহলে এটা ইরানের জন্য অর্থনৈতিক দিক থেকে মারাত্মক ক্ষতিকারক হতে পারে। কিন্তু আমিরাতকেও কিছুটা লোকসান গুনতে হতে পারে।
এদিকে বৈধ বাণিজ্য বন্ধ হলেও, কালো টাকার প্রবাহ পুরোপুরি থামানো কঠিন। বিশেষজ্ঞরা জানান, চীন ও হংকংয়ের বিভিন্ন নামসর্বস্ব কোম্পানির মাধ্যমে আমিরাতের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যবহার করে ইরান বিপুল পরিমাণ তেলের টাকা লেনদেনের কাজ করছে। ফলে সরাসরি বাণিজ্য বন্ধ হলেও, ছায়াপথে অর্থপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
যুদ্ধের শুরু থেকেই আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে এক কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। দুবাইয়ের গবেষক মোহাম্মদ বাহারুনের মতে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে শুধুমাত্র মার্কিন চাপে নয়, বরং নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাগরে জাহাজে হামলা চালিয়ে ইরান স্বাভাবিক বাণিজ্যের আশা করতে পারে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন