প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের শুরুতেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠল কানাডা ও দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াই। নির্ধারিত সময়জুড়ে দুই দলই তৈরি করেছিল একাধিক সুযোগ, তবে গোলের দেখা পাচ্ছিল না কোন পক্ষই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে স্তেফান ইউস্তাকিওর অসাধারণ গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে কানাডা। এই ম্যাচে সাহসী লড়াই করেও বিদায় নিতে হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ব্যস্ত থাকলেও ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গিয়ে তারা বারবার ব্যর্থ হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম দিকে কিছু ভালো আক্রমণ গড়লেও কানাডার গোলরক্ষক ছিলেন সজাগ। অন্যদিকে কানাডাও কর্নার ও আক্রমণ থেকে কিছু দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিল, কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক দুর্দান্তভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে কানাডা সবচেয়ে বড় সুযোগটি পায়। কর্নার থেকে পাওয়া বলের দুর্দান্ত হেডটি প্রায় গোল হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু গোললাইন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল ঠেকিয়ে দেন দক্ষিণ আফ্রিকার একজন রক্ষণভাগের খেলোয়াড়। ফিরতি বল থেকেও কানাডা গোল করতে পারেনি।
বিরতির পর কিছুটা ধীরগতির হলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে কানাডা। বদলি হিসেবে মাঠে নামানো আলফন্সো ডেভিস আক্রমণে নতুন গতি এনে দেন। তার গতিময় দৌড় ও নিখুঁত পাসে একের পর এক সুযোগ তৈরি হতে থাকে। জনাথন ডেভিড, ইউস্তাকিও ও অন্যান্য ফরোয়ার্ডরা চেষ্টা চালিয়েছিল, তবে দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণপ্রাচীর ভাঙা খুবই কঠিন হয়ে উঠছিল।
অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকাও হাল ছাড়েনি। পাল্টা আক্রমণে কয়েকবার কানাডার রক্ষণকে চাপে ফেললেও শেষ মুহূর্তে তারা লক্ষ্যভেদ করতে পারে নি। কানাডার গোলরক্ষক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কিছু দারুণ সেভ করে দলের স্বার্থে কাজ করেছেন।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিল, ঠিক তখনই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ডান দিক থেকে ভেসে আসা বলটি দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগ প্রথমে দূরে সরিয়ে দেয়। তবে, বক্সের বাইরে বল পেয়ে স্তেফান ইউস্তাকিও একবার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাঁ পায়ের শক্তিশালী শটে গোল করেন। চাপের মুহূর্তে তার নিখুঁত শট দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষকের জন্য কোনো সুযোগই ছেড়ে দেয় নি। গোলের পর সতীর্থদের সঙ্গে কানাডার খেলোয়াড়রা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
গোল খাওয়ার পর, দক্ষিণ আফ্রিকা শেষ কয়েক মিনিটে সমতা ফেরানোর চেষ্টা চালায়। একের পর এক আক্রমণ তুললেও কানাডার রক্ষণ সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। শেষ মুহূর্তে বক্সে ভাসানো একটি ক্রসও নিরাপদে ধরে ফেলেন কানাডার গোলরক্ষক। এরপরই শেষ বাঁশি বাজলে কানাডা শিবিরে উল্লাসে ফেটে পড়ে।
নাটকীয় এক লড়াই শেষে ১-০ গোলের জয় নিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে কানাডা, আর তিনটি ম্যাচে দুর্দান্ত লড়াই উপহার দেওয়ার পর এবারের বিশ্বকাপে এখানেই শেষ হলো দক্ষিণ আফ্রিকার যাত্রা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন