প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরান নতুন লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকা তৈরি করেছে, যা দেশটির অভ্যন্তরে অবস্থিত। এই তালিকার উদ্দেশ্য হলো, ইসরায়েল যদি নতুন করে সামরিক হামলা চালায়, তাহলে পাল্টা জবাব দেওয়া সম্ভব হবে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে, ইরানের একজন নিরাপত্তা সূত্র এই তথ্যটি জানিয়েছেন। ওই সূত্র দাবি করেছে যে, নতুন লক্ষ্যবস্তুগুলো এভাবে নির্বাচন করা হয়েছে, যেন সেগুলোতে হামলা হলে সেগুলো বছরের পর বছর মেরামত বা পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হবে না। তাদের মতে, যদি এসব স্থাপনায় আঘাত হানা হয়, তাহলে ‘ইসরায়েল থেকে মানুষের দেশত্যাগের প্রবণতা আরও ত্বরান্বিত হবে’ এই আশঙ্কা রয়েছে।
এমন মন্তব্য তখন প্রকাশিত হয়েছে, যখন ইরানের অত্যন্ত সুরক্ষিত শাহিদ আলিমোহাম্মাদি স্থাপনা নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইংরেজি ভাষার বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই স্থাপনাটি ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত।
নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শাহিদ আলিমোহাম্মাদি স্থাপনাটির নির্মাণকাজ এখনো চলমান রয়েছে। তবে এটি পাহাড়ের গভীরে নির্মিত সুড়ঙ্গ, ভূগর্ভস্থ কক্ষ এবং সুরক্ষিত কমপ্লেক্সের কারণে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালীহারে সুরক্ষিত সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামোগুলোর একটি হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
ইরানি সূত্রগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, যদি এই স্থাপনায় কোনও ধরনের হামলা হয়, তাহলে তার সরাসরি জবাব ইসরায়েলকে দেওয়া হবে। এমনকি হামলাটি যদি যুক্তরাষ্ট্র পরিচালনা করে এবং তাতে ইসরায়েলের প্রকাশ্য অংশগ্রহণ না-ও থাকে, তবুও ইসরায়েলের দায় বহন করতে হবে বলে তারা জানায়।
শাহিদ আলিমোহাম্মাদি স্থাপনাটি নিয়ে ইরান এবং পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে মতপার্থক্য বিদ্যমান। তেহরানের দাবি, সেখানে উন্নতমানের সেন্ট্রিফিউজ সংযোজন ও প্রস্তুতির কাজ হচ্ছে, যা তাদের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির অংশ।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, এই সুরক্ষিত স্থাপনাটি গোপন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তৈরি হচ্ছে। যদিও ইরান এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পাল্টা পাল্টি হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে চলমান বিরোধ আরও জটিল আকার নিতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন