প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন কমিশনের জন্য সার্চ কমিটি গঠনের উদ্দেশ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে দুজন বিচারপতির নাম চেয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। এটি চেয়ারম্যান এবং দুই কমিশনারের পদত্যাগের তিন মাস পর নতুন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সূত্র জানায়, দুদকের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী একজন চেয়ারম্যান ও দুজন কমিশনারের সমন্বয়ে কমিশন গঠন করা হবে। গত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে দুইটি ধারায় বিদ্যমান আইন অধিকতর সংশোধনের লক্ষ্যে জারি করা যে প্রজ্ঞাপন উত্থাপন ও আইন হিসেবে পাস হয়নি, তার কারণে ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত পাঁচ সদস্যের কমিশন গঠনের সম্ভাবনা নেই। এতদূর বিদ্যমান আইনের অন্যান্য ধারাও সংশোধন করা সম্ভব নয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিটি ২৪ মে সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি ২৫ মে থেকে শুরু হয়। ছুটির পর সোমবার পর্যন্ত বিচারপতিদের নাম মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়নি। ফলে আজকের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট থেকে বিচারপতি দুজনের নাম পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন কমিশনের তিন সদস্য তৈরির সুপারিশ করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে শিগগিরই পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করা হবে, এমনটি সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
সার্চ কমিটিতে থাকবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি, হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সদ্যবিদায়ী সচিব এবং সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান।
অন্তর্বর্তী সরকারের দুদক সংস্কার সংক্রান্ত কমিশনের প্রতিবেদনের আলোকে, দুদকের বিদ্যমান আইন অধিকতর সংশোধনের জন্য আইন মন্ত্রণালয় গত বছর ২৩ ডিসেম্বর ১১টি ধারা উল্লেখ করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
চলতি বছরের ৩ মার্চ দুদকের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন, কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে দুদক চলেছে কমিশন বিহীন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪-এর ধারা ৭ এর উপধারা (১) অনুযায়ী কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ প্রদানের উদ্দেশ্যে পাঁচজন সদস্যের সমন্বয়ে একটি বাছাই কমিটি (সার্চ কমিটি) গঠন করতে হবে।
এই বাছাই কমিটি গঠন করার অংশ হিসেবে প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারক এবং হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারককে মনোনয়ন দেবেন। আপিল বিভাগের মনোনীত বিচারক বাছাই কমিটির সভাপতি এবং হাইকোর্ট বিভাগের মনোনীত বিচারক হবে বাছাই কমিটির সদস্য।
আইনের নির্ধারিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সার্চ কমিটি এরপর একাধিক সভা করে দুদকের নতুন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে দক্ষ, অভিজ্ঞ ছয়জন ব্যক্তির নাম রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি থেকে ছয়জনের মধ্য থেকে তিনজনকে কমিশনার হিসেবে নিযোগ দেওয়া হবে। এবং এই তিনজনের মধ্য থেকে একজনকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন