প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষা খাতে সংকট এবং সরকারি পরিষেবার ঘাটতির বিরুদ্ধে ফ্রান্সজুড়ে লাখো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। বিক্ষোভের সময় পুলিশ প্রায় এক হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে।
আলজাজিরা, এএফপি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার। এর মধ্যে রাজধানী প্যারিসে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার। তবে শ্রমিক সংগঠন সিজিটির দাবি, সারা দেশে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ, এবং প্যারিসে অংশ নেন প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ।
বিক্ষোভে শিক্ষার্থী, শ্রমিক, পেশাজীবী এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। প্যারিস ছাড়াও লিঁও, মার্সেই, নিস, বোর্দো, তুলুজসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। যদিও অনেক স্থানে মিছিল শান্তিপূর্ণ ছিল, তবে কিছু শহরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, শনিবারের বিক্ষোভে আটক হওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় এক হাজার। আগের সপ্তাহের বিক্ষোভে ৩৮৫ জনকে আটক করা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, শনিবারের গ্রেপ্তারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে।
গত মাসে প্যারিসের একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট এবং শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মাধ্যমে আন্দোলনের সূচনা ঘটে। পরে শ্রমিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে যুক্ত হন। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ, সরকারি পরিষেবার মান এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে অসন্তোষ আন্দোলনকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেয়।
গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে বিভিন্ন শহরে ভাঙচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধ করতে এবার দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। হেলিকপ্টার, সাঁজোয়া যান, বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট এবং জলকামানও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
প্যারিসে বিক্ষোভের নির্ধারিত পথ নিয়ে আয়োজকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বিরোধ দেখা দেয়। শহরের কেন্দ্রীয় কিছু এলাকায় মিছিল নিষিদ্ধ করে বিক্ষোভের পথ রাজধানীর দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে সীমাবদ্ধ রাখা হয়। এতে আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভের কারণে প্যারিসের বেশ কিছু দোকান বন্ধ রাখা হয়, বিলাসপণ্যের দোকানের কাচ প্রতিরক্ষামূলক প্যানেলে ঢেকে দেওয়া হয় এবং নিরাপত্তার কারণে অন্তত ২৪টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। ল্যুভর ও ওরসে জাদুঘরসহ কয়েকটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ ছিল।
প্যারিসে মিছিলের শেষের দিকে মুখোশ পরা কয়েকটি দলের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কেউ কেউ পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু এবং আতশবাজি ছোড়ে। পুলিশ পাল্টা কাঁদানে গ্যাস এবং জলকামান ব্যবহার করে। মার্সেইসহ কিছু শহরে ময়লার পাত্রে আগুন দেওয়ার এবং দোকানপাটে ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজের মতে, আগের সপ্তাহের তুলনায় এবার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা কম হয়েছে।
ফ্রান্সের বাইরে ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশে বিক্ষোভ এবং নিরাপত্তা জোরদারের খবর পাওয়া গেছে। ইতালির রোম, মিলান ও নেপলস, বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস এবং আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব স্থানে কিছু এলাকায় সংঘর্ষ এবং বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে।
আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণ না হলে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। ফ্রান্সের শ্রমিক সংগঠন সিজিটি আগামী ৫ নভেম্বর নতুন করে ধর্মঘট এবং বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, এএফপি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন