প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০২৬ সালে কাজের জন্য সেরা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছে কর্মক্ষেত্রবিষয়ক পর্যালোচনা প্রতিষ্ঠান গ্লাসডোর। তালিকার শীর্ষে রয়েছে ইন্ডিয়ানাভিত্তিক পারিবারিক মালিকানাধীন গাড়ি ধোয়ার প্রতিষ্ঠান ক্রু কারওয়াশ। দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে ফাস্টফুড প্রতিষ্ঠান ইন-এন-আউট বার্গার এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া। গ্লাসডোরের ১৮তম বার্ষিক ‘বেস্ট প্লেসেস টু ওয়ার্ক’ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কর্মীদের মতামতের মাধ্যমে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন খাতের মোট ১০০টি প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
গ্লাসডোরের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত এক হাজার কর্মী রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীদের দেওয়া পর্যালোচনা বিশ্লেষণ করে তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত জমা পড়া মতামতগুলি এই তালিকায় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। কর্মীদের কাছে তাদের সামগ্রিক কর্মসন্তুষ্টির পাশাপাশি বেতন ও সুযোগ-সুবিধা, পেশাগত উন্নতির সুযোগ, প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ, বৈচিত্র্য, অন্তর্ভুক্তি, জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনার ভূমিকা এবং কাজ ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ক কর্মীদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।
তালিকার প্রথম স্থানে থাকা ক্রু কারওয়াশ ২০২৪ সালের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল। কর্মীদের প্রতি ব্যবস্থাপনার সহযোগিতামূলক মনোভাব, পেশাগত উন্নতির সুযোগ এবং দলগত কাজের পরিবেশ প্রতিষ্ঠানটির ভালো অবস্থানের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে গ্লাসডোর উল্লেখ করেছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইন-এন-আউট বার্গারের রেটিং ৫-এর মধ্যে ৪.৫। একই রেটিং পেয়েছে তৃতীয় স্থানে থাকা এনভিডিয়া, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটার চিপ প্রযুক্তির জন্য পরিচিত। তালিকার শীর্ষ তিনে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি গাড়ি ধোয়া ও খাদ্যসেবা খাতের প্রতিষ্ঠান থাকায় কর্মক্ষেত্রের মান যে শুধু প্রযুক্তি খাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তা স্পষ্ট হয়েছে।
শীর্ষ ১০-এর চতুর্থ স্থানে রয়েছে অর্থ ও করসংক্রান্ত সেবা প্রতিষ্ঠান রায়ান, পঞ্চম স্থানে আবাসন ব্যবসার প্রতিষ্ঠান কেলার উইলিয়ামস এবং ষষ্ঠ স্থানে খাদ্য ও অন্যান্য পণ্য উৎপাদনকারী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মার্স। সপ্তম স্থানে রয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সার্ভিসনাউ, অষ্টম স্থানে ব্যবস্থাপনা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বেইন অ্যান্ড কোম্পানি, নবম স্থানে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান হিউস্টন মেথডিস্ট এবং দশম স্থানে প্রযুক্তি ও প্রকৌশল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইপাম সিস্টেমস। তালিকার প্রথম ছয় প্রতিষ্ঠানের রেটিং ৪.৪ থেকে ৪.৬-এর মধ্যে। সার্ভিসনাউ, বেইন অ্যান্ড কোম্পানি, হিউস্টন মেথডিস্ট ও ইপাম সিস্টেমসের রেটিং ৫-এর মধ্যে ৪.৪।
প্রতিবেদনে প্রযুক্তি খাতে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমে আসার প্রবণতাও তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৬ সালের সেরা ১০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রযুক্তি খাতের কোম্পানি রয়েছে ২৪টি। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ২৬, আর ২০২৪ সালে ছিল ৩১। গ্লাসডোরের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল ঝাওয়ের মতে, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাই এবং দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতার ওপর বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার কারণে খাতটির কর্মক্ষেত্রের আকর্ষণ কিছুটা কমেছে। তবে প্রযুক্তি খাতে উচ্চ বেতন ও পেশাগত উন্নতির সুযোগ এখনো বিদ্যমান।
অন্যদিকে, কর্মীরা কর্মক্ষেত্রে নমনীয়তাকে ক্রমেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে অফিসে ফিরে কাজ করার বাধ্যবাধকতা এবং নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নিয়ে কঠোর নীতির কারণে কর্মীদের পছন্দে পরিবর্তন আসছে। এ বছরের তালিকায় খুচরা বিক্রয় খাতের ১০টি এবং উৎপাদন খাতের ৯টি প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। গ্লাসডোরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কর্মীদের জন্য সহায়ক নেতৃত্ব, উন্নতির সুযোগ, ভালো কর্মপরিবেশ এবং কাজ ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য নিশ্চিত করতে পারা প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন খাত থেকেই সেরা কর্মক্ষেত্রের স্বীকৃতি পাচ্ছে।
সূত্র: সিএনবিসি ও গ্লাসডোর
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন