প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা শুধুমাত্র পরিবেশ রক্ষার জন্য অপরিহার্য নয়, বরং এটি ব্যবসার উন্নয়ন ও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও। যদি কারখানাগুলো নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে, তবে তারা উৎপাদন খরচ এবং কার্বন নিঃসরণ উভয়ই কমাতে সক্ষম হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর চাহিদা পূরণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বৈশ্বিক পোশাক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত গোল টেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। ‘পরিবর্তনশীল শক্তি কাঠামোয় তৈরি পোশাক খাতের কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক এই বৈঠকটি যৌথভাবে আয়োজন করে এইচএসবিসি বাংলাদেশ, অ্যাপারেল ইমপ্যাক্ট ইনস্টিটিউট (এআইআই), ঢাকার সুইডেন দূতাবাস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশন।
গোল টেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব ও জাতিসংঘ অনুবিভাগ প্রধান এ কে এম সোহেল, সুইডেন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ওলে লুনডিন, এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মাহবুব উর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর সারওয়ার হোসেন, বিজিএমইএ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট বিদ্যা খান, এআইআই-এর ক্রিস্টিনা এলিন্ডার লিলজাস, এইচঅ্যান্ডএম গ্রুপের কিম হেলস্ট্রম এবং এটিটিআই-এর অলিভিয়া উইন্ডহাম স্টুয়ার্টসহ ‘টিম সুইডেন’ নেটওয়ার্কের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক গবেষণা, শিল্প অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রধান প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। অ্যাপারেল ইমপ্যাক্ট ইনস্টিটিউটের ক্রিস্টিনা এলিন্ডার লিলজাস বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের সুযোগ নিয়ে একটি গবেষণা রিপোর্ট উপস্থাপন করেন। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, বৈশ্বিক পোশাক সরবরাহ শৃঙ্খলে কার্বন নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাতের কার্বন নিঃসরণ ৫০% কমাতে প্রায় ৬.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন।
আলোচনায় ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার মন্তব্য করেন, ইউরোপীয় বাজার এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা কম কার্বন নিঃসরণের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তাই বাংলাদেশের পোশাক খাতের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উৎপাদন দক্ষতার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের এই সুযোগকে বাংলাদেশের কাজে লাগানো উচিত, যাতে দেশটি টেকসই পোশাক সরবরাহে বিশ্বে নেতৃত্ব দিতে পারে।
এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মাহবুব উর রহমান বলেন, পোশাক খাতে বাংলাদেশ যে বৈশ্বিক নেতৃত্ব তৈরি করেছে, তা ধরে রাখতে হলে জ্বালানি খাতের এই রূপান্তরকে বাণিজ্যিকভাবে সফল করতে হবে। সহায়ক নীতি, উন্নত প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী অর্থায়নের মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করাই হবে ভবিষ্যতের বিনিয়োগ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন