প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ চরম হতাশার এক ত্রিদেশীয় সিরিজ সম্পন্ন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। একই সফরে আফগানদের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে জয় হাতছাড়া করার পর বাংলাদেশ হতাশার মধ্যে রয়েছে। তবে, তাদের জন্য খুব বেশি সময় নেই হতাশা হজম করার, কারণ দুদিন পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লাল বলের সিরিজে মাঠে নামতে হবে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের দিক থেকে এই সিরিজের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। তাই টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। ঘরের মাঠে সিরিজ হওয়ায় প্রেরণার অভাব থাকার কথা নয়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশে পৌঁছেছে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার তারা দুদিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে।
অনুশীলনের শুরুতে পুরো দল উপস্থিত না থাকলেও, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ফিরে নাজমুল শান্ত ও তাওহিদ হৃদয়রা অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের সমীকরণ মাথায় রেখে এই ঘরের মাঠের সিরিজে দলের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী।
বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘আমাদের দল এক-দেড় বছর ধরে লঙ্গার ভার্সনে ভালো ক্রিকেট খেলছে। এখন আমাদের সামনে একটি বড় সুযোগ আছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার, তাই আমরা সেই ধারাবাহিকতাটা চাইব। এ সিরিজ জয়ের যে কোনো বিকল্প নেই, সেটা খেলোয়াড়রাও জানে। সবাই এখানে ভালো খেলার জন্য মুখিয়ে আছে।’
টেস্ট ফরম্যাটে বাংলাদেশ শেষ ১০ ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতে জয়ী হয়েছে; বাকি পাঁচ ম্যাচের মধ্যে দুটিতে হার এবং তিনটিতে ড্র হয়েছে। এই ১০ ম্যাচের মধ্যে চারটি ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ সবগুলোতেই জয় লাভ করেছে। এবারের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান চারে, অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবস্থান অষ্টম। এ সিরিজে অতিথিদের হোয়াইটওয়াশ করার পরিকল্পনা নিয়েই কোমর বেঁধেছে বাংলাদেশ।
এ প্রসঙ্গে বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ তো এখন টেস্টে তেমন ভালো দল নয়। আমাদের টেস্ট দলটি যেভাবে খেলছে এবং ঘরের মাঠে সুবিধা তো আছেই। আশা করি বাংলাদেশ ওদের হোয়াইটওয়াশ করবে। দুদেশের শক্তির পার্থক্য তো এমনটাই নির্দেশ করে। তবুও ক্রিকেট খুবই অনিশ্চয়তার খেলা।’
গত দুবছরে বাংলাদেশের পেস ইউনিটের অন্যতম ভরসার নাম নাহিদ রানা। বিশেষ করে লাল বলে তার সময়টা দুর্দান্ত কেটেছে। কিন্তু চোটের কারণে এ সিরিজে নাহিদকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। তবে আলমগীর বিশ্বাস করেন, এটি খুব একটা প্রভাব ফেলবে না। তিনি বলেন, ‘নাহিদ রানা নেই, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় ক্ষতি। তবে তাকে ছাড়াও আমাদের পেস আক্রমণ বেশ শক্তিশালী। আমাদের পুরো পেস ইউনিটটাই শক্তিশালী। হাসান, ইবাদত ভালো করছে। নাহিদের ইনজুরিটা গেমেরই অংশ।’
এশিয়ান কন্ডিশনে যেকোনো সিরিজ মানেই উইকেট নিয়ে আলোচনা। সঙ্গত কারণেই উইকেটের সুবিধা থাকে হোম টিমের। বাংলাদেশে সাধারণত স্লো ও স্পিন সহায়ক উইকেট বানানো হয়ে থাকে। তবে সম্প্রতি পেস সহায়ক উইকেটও দেখা যাচ্ছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে কেমন উইকেট হতে পারে, সে বিষয়ে বিসিবি পরিচালক বলেন, ‘এক থেকে দেড় বছর ধরে যেমন স্পোর্টিং উইকেট বানানো হচ্ছে, সেখান থেকে বোর্ড সরবে না। আমরা চাই ভালো উইকেট হোক, ভালো ক্রিকেট খেলুক। হার-জিত থাকবে। ভালো উইকেট হবে এখানে। কোনো ক্রিকেটার নেই বলে যে উইকেটের ধরন পরিবর্তন করে ফেলা হবেÑ সেটি আমার মনে হয় না। আমি চাই আদর্শ উইকেটে খেলা হোক। আমাদের পেস ইউনিট উন্নতি করছে। ভালো উইকেটে খেলে আমরা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিতেছি। এ ধারা থেকে সরে আসা উচিত হবে না।’
আগামী ২৮ অক্টোবর সিরিজের প্রথম টেস্ট মিরপুরে অনুষ্ঠিত হবে। সিলেটে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ৫ নভেম্বর।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন