প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বলিউডের প্রতিভাবান অভিনেতা নানা পাটেকরের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের আড়ালে রয়েছে সংগ্রাম, ব্যক্তিগত বেদনা ও সম্পর্কের টানাপোড়েনের নানা অধ্যায়। তার পর্দায় দাপুটে উপস্থিতি, সংলাপ পরিবেশনের স্বতন্ত্র ধরন এবং অনবদ্য অভিনয় সবসময় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। কিন্তু বাস্তব জীবনে তাকে কিছু কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা তিনি খুব একটা প্রকাশ্যে আনেননি।
ক্যারিয়ারের শুরুতে, যখন মাত্র ৫০ টাকা পারিশ্রমিক পেতেন নানা, তখন তার পাশে ছিলেন স্ত্রী নীলকান্তি পাটেকর। এর পাশাপাশি, মাত্র আড়াই বছর বয়সে বড় ছেলেকে হারানোর মর্মান্তিক অভিজ্ঞতাও তার জীবনে এসেছে। জীবনের সেই কঠিন সময়ের কথা একসময় নিজেই প্রকাশ করেছিলেন এই অভিনেতা।
অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে নানার জীবন ছিল অনেকটাই ভিন্ন। নাটকের মঞ্চে কাজ করার সময় তার পারিশ্রমিক ছিল খুবই সামান্য। সেই সময় একটি নাটকে অভিনয় করতে গিয়ে নীলকান্তির সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। নীলকান্তি তখন অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং একটি ব্যাঙ্কে আধিকারিক হিসেবে কাজ করতেন।
এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে নানা জানিয়েছেন, একটি নাটকে অভিনয় করে তিনি পেতেন মাত্র ৫০ টাকা। মাসে ১৫-২০টি শো করলেও তার মোট আয় দাঁড়াত প্রায় ৭৫০ টাকা।
অন্যদিকে, ব্যাঙ্কে চাকরি করার সুবাদে নীলকান্তির মাসিক বেতন ছিল প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা। ফলে সংসার চালানো এবং অভিনয়ের প্রতি নিজের ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রাখার ক্ষেত্রে স্ত্রীর আর্থিক সহায়তা তাকে খুব সাহায্য করেছে।
নানার জীবনের সবচেয়ে মর্মান্তিক অধ্যায়গুলির মধ্যে অন্যতম তার বড় ছেলে দুর্বাসার মৃত্যু। মাত্র আড়াই বছর বয়সে মৃত্যু হয়। অতীতে এক সাক্ষাৎকারে নিজের সন্তানের শারীরিক সমস্যা এবং তাকে হারানোর যন্ত্রণা নিয়ে কথা বলেছিলেন এই অভিনেতা। নানা জানিয়েছিলেন, জন্মের সময় তার ছেলের ঠোঁটে জন্মগত ত্রুটি ছিল। একটি চোখে দেখতেও সমস্যা হতো শিশুটির। সেই পরিস্থিতিতে নিজের মানসিক অবস্থার কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা আত্মসমালোচনাও করেছিলেন। সন্তানের শারীরিক অবস্থার দিকে তাকিয়ে প্রথমেই তার মনে হয়েছিল, অন্যেরা কী ভাববে।
ছেলেকে হারানোর প্রসঙ্গে নানা জানিয়েছেন, তিনি কাঁদেননি। তবে চোখের জল না ফেলা মানে যে মনের ভিতরে যন্ত্রণা ছিল না, তা নয়। বরং এই ঘটনা তার জীবনে এমন এক ক্ষত তৈরি করেছিল, যার কথা স্মরণ করাও সহজ ছিল না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন