প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১ অক্টোবর, ২০২৬ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন যে, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, বিসিএস বা অন্যান্য পরীক্ষায় বৈষম্য করা হবে না।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
৪৯তম বিসিএস (বিশেষ শিক্ষা) ক্যাডারের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, "আমরা বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছি, গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত করেছি। এই বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক পরিচয় যেটাই হোক, এই সমস্ত পরীক্ষা বা অন্য কোন ক্ষেত্রে সেই কারণে কোন বৈষম্য করা হবে না।"
তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন যে, সোশ্যাল মিডিয়াতে একজন ব্যক্তি স্ট্যাটাস দিয়েছেন যে, তিনি আত্মহত্যা করবেন এবং গায়ে আগুন ধরিয়ে দেবেন। প্রজ্ঞাপনে তাঁর নাম ছিল, কিন্তু ভেরিফিকেশনের কারণে পরবর্তীতে চূড়ান্ত তালিকায় নাম আসেনি।
মন্ত্রী বলেন, "প্রজ্ঞাপন তো একবার হয় না, কয়েকবার হতে পারে। সার্ভিসে যোগদানের তারিখ সম্ভবত ১২ তারিখ, আজকে ১ তারিখ, মাঝে আরো ১১টি দিন আছে। যারা এই সমস্ত উত্তেজনা সৃষ্টি করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছেন, তিনি তাঁদের একজন।"
মন্ত্রী আরও বলেন, "তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চয়ই আপনারা জেনেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠনের পদ-পদবীধারী নেতা ছিলেন, সম্ভবত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।"
মন্ত্রী ঘোষণা করেন, "আগেও বলেছি—কোন রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারো প্রতি কোন বৈষম্য করা হবে না।"
তিনি বলেন, ভেরিফিকেশনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। যদি কারো বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকে, তবে পুলিশ ভেরিফিকেশনের কারণে শতকরা একজন বা হাজারে দুই-একজনের সেই অপরাধের কারণে বাদ পড়তে পারে।
মন্ত্রী বলেন, "কারো বিরুদ্ধে যদি কোন কনভিকশন থাকে, সেটা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত বা আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেরকম কিছু কিছু আইনি বিধান থাকে। তা না হলে পরবর্তীতে পাবলিক সার্ভিসে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।"
তিনি ধৈর্য ধারণ করার জন্য অনুরোধ করেন।
মন্ত্রী বলেন, "আরো একজন স্ট্যাটাস দিয়েছেন—আমি নাম নেব না, তিনিও একজন রাজনৈতিক দলের নেতা। তিনি জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে বিভিন্ন রকমের স্ট্যাটাস দিয়েছেন।"
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, "ভেরিফিকেশন একটা নিয়মিত প্রক্রিয়া; সেটা সবসময়, সব সরকারের সময় বিধি মোতাবেক করা হয়ে থাকে।"
তিনি বলেন, "কিন্তু যদি গুরুতর কোনো অভিযোগের কারণে কেউ ভেরিফিকেশনের দরুন নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকেন, তবে তার জন্য মন্ত্রণালয়ে একটা অভিযোগ বা আবেদন দাখিল করা যায়।"
মন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অপপ্রচার বা অপতথ্য দিয়ে উন্মাদনা সৃষ্টি করার বিরুদ্ধে সতর্ক করেন।
তিনি বলেন, "আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করব, রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করার জন্য আমাদের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের যেন উত্তেজিত না করা হয়।"
মন্ত্রী আরও বলেন, "আমরা নিশ্চয়তা দিচ্ছি, রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি কোন বৈষম্য করা হবে না।"
তিনি জানান, নিয়োগপত্র ইস্যু করার জন্য প্রজ্ঞাপনের আরো সময় আছে।
মন্ত্রী বলেন, "আগামী সোমবারে ৪৬ জনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারির দিন নির্ধারিত আছে।"
তিনি সকলকে ধৈর্য ধারণ করে অপেক্ষা করার জন্য অনুরোধ করেন এবং যারা অপতথ্য প্রচার করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, তাদেরকে এসব থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন