প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফিলিস্তিন সফরে গিয়ে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে আটক হন মার্কিন ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা রো খান্না। অভিযোগ করা হয় যে, রাইফেলধারী অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা তাকে এবং তার সফরসঙ্গীদের এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকে রাখে।
শনিবার (১১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি একটি পোস্টের মাধ্যমে এই অভিযোগ প্রকাশ করেন। ওই পোস্টে তিনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সহায়তা করার অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে আল জাজিরার মাধ্যমে খবরটি প্রচারিত হয়েছে।
পোস্টে রো খান্না উল্লেখ করেন, ‘ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর বসতি স্থাপনকারীদের পক্ষ নেয় এবং আমাদের আটকে রাখে।’ তিনি ঘটনাটির বিস্তারিত শিগগিরই প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দেন।
২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার দৌড়ে থাকা রো খান্না আরও সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলিরা একটি ‘বড় ভুল’ করেছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ইসরায়েলি সরকারের সহায়তায় অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা এখন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র-সমর্থিত জাতিগত নিধনের অভিযোগ তুলেছে। গত মাসে কয়েকটি পশ্চিমা দেশ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার সাথে জড়িত নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রো খান্না বলেন, গত বুধবার (৮ জুলাই) তার দলকে ‘মেশিনগনধারী গুন্ডারা’ আটকে রেখেছিল। তারা রাস্তা আটকে দেয় এবং ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে ডাক দেয়। এরপর সেনাবাহিনীও বসতি স্থাপনকারীদের পক্ষ নেয়।
তিনি আরও জানান, বসতি স্থাপনকারীদের কাছে থাকা অ্যাসল্ট রাইফেলগুলো মার্কিন নির্মিত ছিল। ডিআরএম নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন এই আইনপ্রণেতা বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও ইসরায়েলে কাটানো সময়ের অভিজ্ঞতা তাকে বর্ণবাদী আচরণের ভয়াবহতা বুঝতে সাহায্য করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি ওই বসতি স্থাপনকারীদের চোখে চরম অহংকার দেখেছি। ২১-২২ বছরের তরুণরা বন্দুক হাতে আমাদের আটকে রেখে হাসাহাসি করছিল। আমার করের টাকায় বেতন পাওয়া ইসরায়েলি তরুণ সেনাদের মধ্যেও একই অহংকার দেখেছি। আমেরিকানদের আটক করার সময় তাদের মধ্যে বিন্দুমাত্রও সম্মানবোধ ছিল না।’
খান্নার সফরসঙ্গী ও তার সহযোগী ক্যামেরন কাস্কি জানান, তাদের এক ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে রাখা হয়েছিল। এই সময় তারা সাহায্যের জন্য জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। পরে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে তারা মুক্তি পান।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, খিরবেত জানুতা নামক ছোট একটি ফিলিস্তিনি গ্রামের কাছে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের যানবাহন চলাচলে বাধা দেওয়ার খবর পেয়ে সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তারা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সহিংস বসতি স্থাপনকারীদের হামলার মুখে ওই গ্রামের বাসিন্দারা বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন