প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে বর্তমানে স্পিকারের (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব পালনরত ব্যারিস্টার কায়সার কামালই নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর যথাযথ কর্তৃপক্ষ হিসেবে আইন মন্ত্রণালয় মত প্রকাশ করেছে।
নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর জন্য কে দায়িত্ব পালন করবেন, এই বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ যখন মতামত জানতে চায়, তখন বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের মতানুসারে, সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ব্যারিস্টার কায়সার কামালই রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন।
বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীনের বক্তব্যে উঠে আসে, সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত। তিনি বলেন, "৭০ অনুচ্ছেদ এই সরকার করেনি। আবার ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর যে সরকার এসেছিল, তারাও সংবিধানে কোনো পরিবর্তন আনেনি। তাই প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে।"
এদিকে, আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশে ৩৫ বছর পর আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলকভাবে রাষ্ট্রের প্রধান ব্যক্তি নির্বাচনের আয়োজন হতে যাচ্ছে। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিজয় সম্ভাবনা অনেকটাই নিশ্চিত। তবে ভোটের প্রচারণা থেকে বিরোধী জোট সরে যায়নি। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ। এই নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা এনেছে।
রাষ্ট্রপতি পদে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন ১৯৯১ সালে হয়েছিল। এরপর সাতজন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। কারণ, প্রতি বার ক্ষমতাসীন দলের একক প্রার্থী থাকায় বিরোধী দল উক্ত নির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি।
কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ বিএনপির অবস্থান দৃঢ়। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে, সংসদ সদস্যদের দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেয়ার সুযোগ নেই।
যদি কোন সংসদ সদস্য দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধাচরণ করে ভোট দেন, তাহলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যাবে। এই বিবেচনায় সংসদের মোট ৩৪৯ আসনের মধ্যে ২৪৭টি আসনে ক্ষমতাসীন দলের সদস্য রয়েছে। ফলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিজয় নিশ্চিত দেখাচ্ছে।
তবে বিরোধী জোট নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অব্যাহত আছে। জামায়াত জোটের ৯০ জন সংসদ সদস্যের অলি আহমদকে প্রার্থী করে ভোটের মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নির্বাচনে বাড়তি উষ্ণতা সৃষ্টি করেছে।
জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। ভোটের শুরুর আগে নির্বাচনকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংসদ সদস্যদের ভোট দেয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করবেন। এরপর ভোট গ্রহণ শুরু হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গোপন নয়। সংসদ সদস্যরা ব্যালটে তাদের পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন। তারা নিজ নিজ আসনে বসেই ভোট দেবেন।
ভোট দেয়ার জন্য সংসদ সদস্যরা ব্যালট পেপারের মুড়ি অংশে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করে ব্যালট গ্রহণ করবেন। পরে মূল ব্যালটে আবারও তাদের পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালও সংসদ সদস্য হিসেবে এ নির্বাচনে ভোটার। তাদের ভোট দেওয়ার জন্য সংসদ কক্ষে আলাদা আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে।
বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ সদস্য হওয়ায় তিনিও ভোট দিতে পারবেন। তবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে কার্যভার গ্রহণের দিন তার সংসদীয় আসন শূন্য হয়ে যাবে। অপরদিকে, অলি আহমদ সংসদ সদস্য নন। তাই তিনি ভোট দেয়ার সুযোগ পাবেন না।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ভোট গ্রহণের শুরুতে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত স্পিকার ও প্রধানমন্ত্রী ভোটদান বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এরপর সম্প্রচার বন্ধ থাকবে। ভোট গণনার সময়ে আবারও সরাসরি সম্প্রচার শুরু হবে।
ভোট গণনা শেষে সংসদ কক্ষে ফলাফল ঘোষণা করবেন নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ। পরে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে। নতুন রাষ্ট্রপতি শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ করবেন।
এর আগে গত ২৪ জুলাই আওয়ামী লীগ আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই কারণে ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন