প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচকভাবে অগ্রসর হচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে, এই প্রচেষ্টা যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করবে।
বার্তা সংস্থা আনাদোলুর রিপোর্ট অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেছেন, ‘তারা বৈঠক করতে চায় এবং আমরা বৈঠক করছি। দেখা যাক কী হবে। চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ‘আমরা যা করেছি, তা না হলে তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইত না।’
ট্রাম্প বলেছেন, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচকভাবে চলছে এবং এর মাধ্যমে ভালো ফল আসার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সমঝোতা না হলে, কিছু দিন আগে যে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছিল, প্রয়োজন হলে আবার সেই পথে হাঁটার ইঙ্গিত দেন তিনি।
ট্রাম্প সাধারণত বিস্তারিত না দিলেও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি দুর্বল অবস্থানে থাকত, তাহলে ইরান কখনো আলোচনার আগ্রহ দেখাতো না। তার মতে, কঠোর সামরিক চাপই তেহরানকে আলোচনায় বসতে রাজি করেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অভিযোগ অনুযায়ী, রাশিয়া ইরানকে স্যাটেলাইটভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছ থেকে এই তথ্য জানবেন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘খুব শিগগিরই আমরা এ বিষয়ে জানতে পারব। আমি পুতিনকে জিজ্ঞেস করব, তখন বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে ইরান প্রশ্নে নিজের অবস্থান সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, দুজনের মধ্যে ‘অনেক বিষয়ে মিল রয়েছে’, যদিও ‘কিছু বিষয়ে সামান্য মতপার্থক্য’ আছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের একটি কর্মকর্তা আনাদোলুকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হোয়াইট হাউসে নেতানিয়াহুর সাথে বৈঠকে বসবেন ট্রাম্প। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, বৈঠকে ইরানকে ঘিরে চলমান পরিস্থিতি, লেবাননে ত্রিপক্ষীয় কাঠামো বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং আব্রাহাম চুক্তির সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হবে।
একই দিনে হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করবেন ট্রাম্প। সেখানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এখনই যুদ্ধের অবসান ঘটানোর সময়।’
সম্প্রতি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় ধারাবাহিক সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। এর প্রতিক্রিয়ায়, ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। চলতি ঘটনাসমূহের মধ্যে টানা প্রায় দুই সপ্তাহের হামলা-পাল্টা হামলার পর, গত তিন দিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘাত বিরতি রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন