প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাশিয়া ইউক্রেনের কিয়েভ এবং দনিপ্রোর মতো শহরগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিক্ষেপ করেছে। এতে অন্তত ১০ জন নিহত এবং প্রায় ১০০ জন আহত হওয়ার তথ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মস্কোর বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে কয়েক দিন ধরে সতর্কবার্তা দেওয়ার পর আজ মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে এই হামলা করা হয়।
চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সরবরাহ ও অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনও এ বছর রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা বাড়িয়েছে। উভয় পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
গত সপ্তাহে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত লুহানস্ক অঞ্চলের একটি ছাত্রাবাসে ড্রোন হামলায় ২১ জন নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ক্রেমলিন কিয়েভে ‘পরিকল্পিত হামলা’ চালানোর হুমকি দিয়েছে। তবে ইউক্রেন ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর রাশিয়ান হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং শিশুসহ ৫৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানান শহরের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো। হামলার পর তোলা ছবিতে উঁচু ভবনের উপরে ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং বড় বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়।
হামলার ভেতরে একটি স্থানীয় বাসিন্দা, ওলহা মুদ্রা, তার ছয় বছর বয়সী মেয়ে নাতালিয়াকে নিয়ে আতঙ্কের মুহূর্তের বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বুঝতেই পারছিলাম না কী ঘটছে। মনে হচ্ছিল যেন পৃথিবীর শেষ সময় এসে গেছে।’
তিনি হামলার ভয়াবহতার বিষয় বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘চারদিক ছড়িয়ে ছিল ধ্বংসস্তূপ, সবকিছু ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল। কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।’ উক্ত ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি আবাসিক ভবন এবং ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি এই কথা জানান।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো বলেন, একটি সন্দেহভাজন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২৪ তলা একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের অংশ ধসে পড়েছে। এতে ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তাছাড়া, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি নয়তলা আবাসিক ভবন এবং আরও কয়েকটি ভবনে আগুন লেগেছে। ক্লিচকো জানান, ‘ওবোলন জেলায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকটি গাড়িতে আগুন লেগেছে। খোলা জায়গার অন্তত দুটি স্থানেও আগুন ছড়িয়ে পড়েছে, যার একটি একটি কিন্ডারগার্টেনের কাছাকাছি।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার ভোরে রুশ হামলা থেকে বাঁচার জন্য হাজার হাজার মানুষ কিয়েভের মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নিতে উদ্যোগী হন। অনেককে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও গদি সঙ্গে নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে দেখা গেছে। এ সময় শহরজুড়ে রাশিয়ার হামলা প্রতিহত করার জন্য ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গর্জন শোনা যাচ্ছিল।
ভোর হওয়ার পরও কিয়েভে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন রয়টার্সের একজন প্রত্যক্ষদর্শী। ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ডনিপ্রো এবং এর আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছেন। আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আহত সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধ্বংস হয়ে যাওয়া আবাসিক ভবন, পুড়ে যাওয়া যানবাহন এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের খেলার মাঠের ছবিও তিনি প্রকাশ করেছেন। এর পাশাপাশি, মঙ্গলবার ভোরে ইউক্রেনের বেশিরভাগ অঞ্চলে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। এর আগের দিনই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বড় ধরনের রুশ হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
রাতের ভিডিও ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা নিয়ে গোয়েন্দা সতর্কতা এখনো বহাল রয়েছে। বড় ধরনের হামলা হতে পারে। তারা এর প্রস্তুতি নিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী বর্তমানে যেসব সরঞ্জাম ও সক্ষমতা রয়েছে, তা নিয়ে ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত রয়েছে।’
ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলেও রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ তথ্য জানিয়েছেন শহরের মেয়র ইহর তেরেখভ। অন্যদিকে, রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলও ইউক্রেনের হামলার মুখে পড়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণ রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের ইলস্কি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার আগে আগুন ধরে যায়।
ইউক্রেন সীমান্তবর্তী রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন একটি বাড়িতে আঘাত হানলে ১১ বছর বয়সী একটি ছেলেশিশু আহত হয় বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রাতভর ইউক্রেনের মোট ১৪৮টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এ ছাড়া রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপল নৌঘাঁটির ওপরও ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলা প্রতিহত করতে কার্যক্রম চালিয়েছে।
কিন্তু এসব ঘটনার সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধ বন্ধের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত মোকাবেলায় বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন