প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর রিসার্চ অন ন্যাশনালিজম অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (সিআরএনডি) আয়োজনে অভিষেক অনুষ্ঠানে ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম জানিয়ে বলেন, জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রচিন্তা ও রাষ্ট্রদর্শন নিয়ে গবেষণার বিশাল ক্ষেত্র রয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে উপাচার্য বলেন, গ্রন্থটি গবেষণাধর্মী একটি কাজ, যেখানে জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন, রাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, প্রশাসনিক চিন্তা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন দিক তথ্যভিত্তিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বইটির যতটুকু পড়েছি, তাতে প্রতিটি অধ্যায়ে গবেষণার স্পষ্ট ছাপ রয়েছে। লেখক দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সূত্র ও রেফারেন্স ব্যবহার করেছেন, যা বইটির গ্রহণযোগ্যতা আরো বৃদ্ধি করেছে।
উপাচার্য আরও বলেন, জিয়াউর রহমানকে পুরোপুরি না জানলে এবং তার রাষ্ট্রচিন্তার বিষয়ে অবগত না হলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও রাষ্ট্রচিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হবে না। তাই বইটি সবার কাছে পড়ার জন্য উপযোগী।
গ্রন্থটির লেখক বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (সিআইডি) ড. মো. রুহুল আমিন সরকার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শনের ভিত্তি ছিল সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা, গণতন্ত্র, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, জাতীয় সংহতি, মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের সমন্বিত দর্শন।
তিনি আরও জানান, অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, গ্রামকেন্দ্রিক উন্নয়ন, নাগরিকভিত্তিক জাতীয়তাবাদ, সামাজিক সংহতি এবং বাজারমুখী অর্থনীতির মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন জিয়াউর রহমান।
তার রাষ্ট্রচিন্তাকে জন লক, রুশো, টকভিল, ডার্কহেইম, অ্যাডাম স্মিথ, হায়েক, জোসেফ নাই, কিওহেন, আর্নেস্ট রেনাঁ, বেনেডিক্ট অ্যান্ডারসন ও অ্যান্থনি স্মিথসহ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চিন্তাবিদদের আলোকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, এই আয়োজন আসলে একটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন নয়, বরং বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তা, জাতীয়তাবাদ ও গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে যদি আরও প্রাথমিক দলিল, আন্তর্জাতিক গবেষণা এবং তুলনামূলক বিশ্লেষণ যুক্ত হয়, তাহলে গ্রন্থটির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা আরো বৃদ্ধি পাবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার (লিংকন) বলেন, জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ ও গণতান্ত্রিক চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ আদর্শিক ভিত্তি, যার প্রাসঙ্গিকতা এখনো বিদ্যমান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ শরিফ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, গবেষণাধর্মী বই রচনা একটি খুব কঠিন কাজ এবং ড. রুহুল আমিন সরকারের এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে।
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মানসুরা আলম, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সহসভাপতি সাঈদ ইকবাল টিটুসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা, শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন