প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ‘নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায়’ রয়েছে বলছেন ইরানের আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান হোজ্জাতোলেসলাম হোসেইন তাইয়েব। এই খবরটি ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারসের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর এই বক্তব্যটি আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ইরানের পক্ষ থেকে উচ্চারিত হলো।
স্থানীয় সময় বুধবার (১২ আগস্ট) ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। আমার মনে হয়, আমরা এটি ধরে রাখব!’ তিনি পোস্টের শেষে লেখেন, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর’।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সাংবাদিকদের কাছে একই ধরনের দাবি করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। ইরানের বন্দরগুলোতে চলমান মার্কিন অবরোধের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন, এটাকে সবাই ‘ইস্পাতের দেয়াল’ বলে অভিহিত করেছে এবং এর বিরুদ্ধে ইরানের কিছু করার সম্ভাবনা নেই।
বাসিজ প্রধান তাইয়েব আজ জবাবে বলেন, ‘আজ আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, হরমুজ প্রণালি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমাদের দেশ সম্পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে তার পথ এগিয়ে নিচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকানরা ইসলামী বিপ্লবের শক্তি দেখেছে।’
হরমুজ প্রণালিতে কার্যত ইরানের প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। আগামীতে এই জলপথ কীভাবে পরিচালিত হবে, সে নিয়ে তেহরান ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। এই আলোচনাতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশগ্রহণ করছে না। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৃহত্তর শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
ইরান জানিয়েছে যে, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণরূপে চালু হতে দেয়া হবে না।
প্রণালিটি দিয়ে কিছু জাহাজ চলাচল করতে পারলেও তারা বিভিন্ন বাধা ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। এর ফলে, জলপথটিতে জাহাজ চলাচলের পরিমাণ ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে মাত্র আটটি জাহাজ পার হয়েছে। যুদ্ধের পূর্বে প্রতিদিন এই জলপথ দিয়ে ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত। বাণিজ্য বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এর আগের ১০ দিনের গড় ছিল প্রায় ১২টি জাহাজ।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। জুনে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করলেও জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে তা ভেঙে যায়। এরপর উভয় পক্ষ আবারও হামলা শুরু করে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধে কিছুটা কমে এলেও বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার মার্কিন নৌবাহিনীর একটি সামরিক হেলিকপ্টার পানামার পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন