প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেপালের কাঠমান্ডু শহরে ষষ্ঠ ‘লালাবালা আন্তর্জাতিক শিশু নাট্যোৎসব ২০২৬’ শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ২ থেকে ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এই আন্তর্জাতিক উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে হিরণ কিরণ থিয়েটার। নাটক ‘এ ফাদার’স স্কাই’ মঞ্চস্থ করবে দলটি, যা রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম ঢালী। নেপালের উদ্দেশে ১ নভেম্বর রওনা হবে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি।
‘সেলিব্রেটিং অটাম উইথ ১৩ কান্ট্রিজ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এবারের উৎসবের ভেন্যু ইম্পেরিয়াল ওয়ার্ল্ড স্কুল। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, ১৩টি দেশের নাট্যদল ও শিল্পীরা এতে অংশগ্রহণ করবে। শিশুতোষ নাট্যচর্চার প্রসার, আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের মধ্যে যোগাযোগ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
‘এ ফাদার’স স্কাই’ নাটকটি ভালোবাসা, আত্মমর্যাদা, স্বপ্ন ও বিচ্ছেদের একটি আবেগঘন কাহিনী। নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র মৃত্তিকা, যিনি একজন মেধাবী শিক্ষার্থী এবং প্রতিভাবান নৃত্যশিল্পী। নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পড়াশোনা ও নৃত্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখে সে। প্রেমে প্রতারণার অভিজ্ঞতা তার মনে পুরুষের প্রতি অভিমান সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রতি অনীহা প্রকাশ করলেও আসিফের সঙ্গে গড়ে ওঠে তার বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার সম্পর্ক।
জীবনের সাফল্যের মুহূর্তে মৃত্তিকা জানতে পারে, সে ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত। চিকিৎসকের ধারণা, তার আয়ু আর মাত্র ১০ দিন। মৃত্যুর আশঙ্কা, বাবাকে ছেড়ে যাওয়ার ভয় এবং ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে বিচ্ছেদের বেদনা তাকে বিপর্যস্ত করে তোলে।
মৃত্তিকার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে আসিফ যখন তার জন্য লাল বেনারসি কিনতে যায়, ফিরে এসে দেখে মৃত্তিকা আর বেঁচে নেই। মেয়েকে হারিয়ে বাবার শোক এবং প্রিয়জনকে হারিয়ে আসিফের অসহায়ত্ব নাটকটির পরিণতিকে গভীর বেদনাময় করে তোলে। স্মৃতি ও শূন্যতার মধ্য দিয়ে উঠে আসে বাবা-মেয়ের নিবিড় সম্পর্ক এবং প্রিয়জন হারানোর অসহনীয় যন্ত্রণা।
নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাহাঙ্গীর আলম ঢালী (রহমান), শামীমা আক্তার মুক্তা (মৃত্তিকা), মোহাম্মদ শামীম শেখ (আসিফ), মোহাম্মদ রাজিবুল হাসান (জাফর) ও শিশুশিল্পী ঋদ্ধ হক। আলোক নির্দেশনায় রয়েছেন মো. মুজিবুল হক, আবহসংগীতে মোহাম্মদ শামীম শেখ এবং নৃত্য পরিচালনায় শামীমা আক্তার মুক্তা।
এটি হিরণ কিরণ থিয়েটারের সপ্তম নেপাল সফর। এর আগে দলটি ভারতের প্রায় ১০টি রাজ্যের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব এবং শ্রীলঙ্কার একটি উৎসবে নাটক মঞ্চস্থ করেছে। এবারের আয়োজনেও বাংলাদেশের নাট্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
নাটকটির নির্দেশক জাহাঙ্গীর আলম মন্তব্য করেন, ‘নাটকটির মধ্য দিয়ে আমরা ভালোবাসা, আত্মমর্যাদা, মানবিক সম্পর্ক এবং জীবনের নির্মম বাস্তবতাকে তুলে ধরতে চেয়েছি। মৃত্তিকার জীবনসংগ্রাম ও স্বপ্নপূরণের আকাঙ্ক্ষার মধ্য দিয়ে মানুষের বেঁচে থাকার গভীর আকুতি প্রকাশ পেয়েছে। একই সঙ্গে বাবা-মেয়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও প্রিয়জনকে হারানোর বেদনাও নাটকের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ। জীবনের অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভালোবাসা ও মানবিকতাই মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি। ভিন্ন ভাষার দর্শকেরাও নাটকটির মধ্য দিয়ে এই অনুভূতি উপলব্ধি করতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন