প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক সংকট নিয়ে নতুন একটি জল্পনা শুরু হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, সোনিয়া গান্ধী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেসের দলে ফেরার প্রস্তাব দিয়েছেন। কংগ্রেস গত প্রায় তিন দশক আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের হাতে তৃণমূল গড়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে দলীয় ভাঙন, নেতৃত্ব সংকট এবং দুর্নীতির অভিযোগের চাপে তৃণমূল কংগ্রেস অস্তিত্বের জন্য লড়াই করছে।
সদ্য অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দাবি, দলটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিধায়ক ও সাংসদ প্রকাশ্যে বা আড়ালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের সমালোচনা করছেন।
এমন অস্থিরতার মধ্যে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে অংশ নিতে ৮ জুন দিল্লি যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই দিনের সফরের পর বুধবার (১০ জুন) কলকাতায় ফিরে আসেন। তার আগের দিন কলকাতায় তার বাসভবন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে সিআইডির তল্লাশি নতুন করে রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে। দুর্নীতির একাধিক অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তদন্তও জোরদার হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।
দিল্লি সফরের সময়ে ১০ জনপথে সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মমতা এবং অভিষেকের বৈঠকটি সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল।
ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ওই বৈঠকে সোনিয়া গান্ধী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহসভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে দলে ফেরার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব বা তৃণমূল কংগ্রেসের কেউই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করেননি।
এখন তৃণমূলের দুর্বল অবস্থানকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে শুরু করেছেন মমতা-বিরোধী শিবিরও। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় মমতা ও অভিষেককে কটাক্ষ করেন।
তিনি দাবি করেছেন যে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক সংকট এবং নেতৃত্বের ব্যর্থতার ফলেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি কংগ্রেসের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে দল ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই দলটি গত আড়াই দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির কেন্দ্রে অবস্থান করছে। কিন্তু ২৮ বছর পর দলীয় বিভাজন, নির্বাচনী বিপর্যয় এবং আইনি চাপের মুখে এখন তৃণমূল কষ্টদায়ক সময় পার করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন