প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার যে বীজ রোপিত হয়েছিল, ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন তার অন্যতম অগ্রপথিক। তার ভাষা আন্দোলনের আহ্বান ছিল স্বাধীনতার সূতিকাগার। তবে, জাতীয় জীবনে এই মহান ব্যক্তিত্বের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয়নি। বক্তারা রাষ্ট্রীয়ভাবে তার মূল্যায়নের পাশাপাশি স্মৃতি সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ১৪১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে আলোচনা ও সংগীত পরিবেশন করা হয়।
অনুষ্ঠানে অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নেতৃবৃন্দ, সংস্কৃতিকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অ্যাডভোকেট আবদুন নূরের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন বীরমুক্তিযোদ্ধা মতিলাল বনিক।
অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন: অ্যাডভোকেট সৈয়দ মো. জামাল, অধ্যাপক মানবর্দ্ধন পাল, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. বাহারুল ইসলাম মোল্লা, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, ডা. অরুনাভ পোদ্দার, প্রদ্যুৎ নাগ, শামীমী সিকদার দীনা প্রমুখ।
বক্তারা উল্লেখ করেন, ‘ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেই নেতৃত্ব দেননি, বরং বাঙালির রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির পথও দেখিয়েছেন। তার জীবন ও সংগ্রামের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।’
তারা তার নামে স্মৃতিচিহ্ন, পাঠাগার ও গবেষণামূলক উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালনের দাবি জানান।
ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮৬ সালের ২ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তরে রামরাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মী ও ভাষাসংগ্রামী। ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে পরিষদের অন্যতম ভাষা করার দাবি উত্থাপন করেন তিনি। তার ঐতিহাসিক প্রস্তাবের মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্রে বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন নতুন গতি পায়। ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের আটক করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তিনি শহীদ হন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন