প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে জানিয়ে দিয়েছেন, ‘এখন আমি জামিন চাই না।’ তিনি এই মন্তব্যটি স্বামী তৌফিক নাওয়াজের মৃত্যুর পর করেছেন, যখন তার আর বাসায় ফেরার তাড়া নেই।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জামিন শুনানির সময় তিনি এই কথা বলেন। জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল। এই কারণে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ হাজির করা হয়। জামিন শুনানি শুরু হওয়ার আগে তিনি কথা বলার অনুমতি চান। ট্রাইব্যুনাল অনুমতি দিলে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মাইক্রোফোনে তিনি কথা বলেন।
দীপু মনি বলেন, ‘আমি দুই বছর ধরে কারারুদ্ধ। গত এপ্রিলে আমার জামিন আবেদন করা হয়েছে। এখন আমি জামিন চাই না। আমি জামিন আবেদন প্রত্যাহার করতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে জামিন আবেদনের শুনানির সময় ট্রাইব্যুনাল বলেছিলেন, ‘বাসায় গিয়ে কী করবেন?’ এখন আমার আর বাসায় যাওয়ার দরকার নেই। আমার স্বামী তৌফিক নাওয়াজ সাত বছর শয্যাশায়ী ছিলেন। তার বাকশক্তিও ছিল না। কোনো কথা বললে চোখের পলক ফেলে উত্তর দিতেন। আমি পাঁচ বছর সরকারি দায়িত্বপালনের সময় শয্যাশায়ী স্বামীর যত্ন নিয়েছি।
এ অবস্থায় বাড়ি ছেড়ে আমার স্বামীকে দুই বছর অজ্ঞাত স্থানে থাকতে হয়েছে। আশ্রিত অবস্থায় ছিলেন। আমিও যত্ন নিতে পারিনি। এ জীবন তিনি মেনে নিতে পারেননি।
দীপু মনি জানান, চার মাস আগে স্বামী তৌফিক নাওয়াজকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে জামিন আবেদন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘৩৯ বছরের জীবনসঙ্গীর শেষ সময়ে কাছে থাকতে পারিনি। এখন আমার বাসায় যাওয়ার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। আমি আর কার কাছে যাব? সন্তানরা জামিন চায়। আমার বাসায় যাওয়ার আর তাড়া নেই।’
দীপু মনির বক্তব্য শোনার পর ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘উই আর সাডেন্ড (আমরা মর্মাহত)। হোয়াটএভার ইউ সেইড, বাট মেনি আদার রিজন হ্যাড টু কনসিডার্ড অ্যান্ড উই থট বোথ সাইডস (আপনি যাই বলুন না কেন, আরো অনেক কিছু বিবেচনায় নিতে হয়, উভয় পক্ষের কথা ভাবতে হয়)।’
এরপর ট্রাইব্যুনাল দীপু মনির জামিন আবেদন প্রত্যাহারের আবেদনে ১৭ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন ধার্য করেন। গত ১৮ আগস্ট মারা যান দীপু মনির স্বামী তৌফিক নাওয়াজ। এরপর তাকে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। গত ২৬ এপ্রিল জামিন আবেদন করেছিলেন দীপু মনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন