প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ ও অগ্রিমের একটি বড় অংশ শিল্প এবং বাণিজ্য খাতে কেন্দ্রীভূত রয়েছে। চলতি বছরের জুন মাস শেষে, ৩৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ ৭৮ হাজার ১১৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে শিল্প খাতে ঋণের পরিমাণ ৩৪ হাজার ৪৯১ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ৪৪ দশমিক ১৫ শতাংশ। বাণিজ্য ও কমার্স খাতে ঋণের পরিমাণ ১৫ হাজার ৫৪৯ কোটি ২২ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ১৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। এভাবে, শিল্প ও বাণিজ্য—এই দুই খাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট ঋণের ৬৪ দশমিক ০৬ শতাংশ কেন্দ্রীভূত রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উল্লেখ করেছেন যে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের বড় অংশ শিল্প ও বাণিজ্য খাতে কেন্দ্রীভূত থাকায়, যদি এ দুই খাতে ঋণের মানের অবনতি ঘটে, তবে পুরো আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতেই তার প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে, ঋণ অনুমোদনের আগে যথাযথ যাচাই, ঋণ প্রদান পরবর্তী নিয়মিত তদারকি এবং ঋণের অর্থ নির্ধারিত কাজে ব্যবহার হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাস শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট ঋণের স্থিতি ছিল ৭৮ লাখ ১১ হাজার ৪৫৬ লাখ টাকা, অর্থাৎ ৭৮ হাজার ১১৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এই সময়ে মোট ঋণ বিতরণ হয়েছে ৫ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭৯ লাখ টাকা বা ৫ হাজার ৭৩৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। বিপরীতে, ঋণ আদায়ের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৪১ হাজার ৫১৫ লাখ টাকা বা ৭ হাজার ৪১৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা। একই সময়ে মোট ওভারডিউ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৪৩ হাজার ২১৯ লাখ টাকা, অর্থাৎ ১৮ হাজার ৪৩২ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
শিল্প খাতে ৪৪.১৫ শতাংশ ঋণ
শিল্প খাতে ঋণের সবচেয়ে বড় অংশ রয়েছে। জুন মাস শেষে, শিল্প খাতে ঋণের স্থিতি ৩৪ হাজার ৪৯১ কোটি ১০ লাখ টাকা। মোট ঋণের তুলনায় এর অংশ ৪৪ দশমিক ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় প্রতি ১০০ টাকার ঋণের মধ্যে ৪৪ টাকার বেশি শিল্প খাতে রয়েছে। শিল্প খাতে শুধু ঋণের স্থিতিই বড় নয়, বরং এই খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। জুন মাস শেষে, শিল্প খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ৭ হাজার ৮৭১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। শিল্প খাতের মোট ঋণের তুলনায় খেলাপির পরিমাণ প্রায় ২২ দশমিক ৮২ শতাংশ।
শিল্প খাতের ঋণকে বিভিন্ন উপখাতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে, মেয়াদি ঋণ বা টার্ম লোনের স্থিতি ছিল ২৮ হাজার ৫৮১ কোটি ১ লাখ টাকা। এই উপখাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৬১৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আর ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ফাইন্যান্সিংয়ের স্থিতি ছিল ৫ হাজার ৭৩৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা এবং ওভারডিউ ছিল ১ হাজার ২৪৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ফ্যাক্টরিংয়ের ঋণ স্থিতি ছিল ১৭৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা এবং এ খাতে ওভারডিউ ছিল ৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। জুন মাসে শিল্প খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬৪৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। একই সময়ে আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৪৫১ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
বাণিজ্য খাতে ১৯.৯১ শতাংশ
শিল্পের পর, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের দ্বিতীয় বৃহত্তম অংশ বাণিজ্য ও কমার্স খাতে রয়েছে। জুন মাস শেষে, এ খাতে ঋণের স্থিতি ছিল ১৫ হাজার ৫৪৯ কোটি ২২ লাখ টাকা। মোট ঋণের ১৯ দশমিক ৯১ শতাংশ রয়েছে এই খাতে।
বাণিজ্য খাতেও খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। জুন মাস শেষে, এ খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ৬ হাজার ৬৪৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ, বাণিজ্য খাতের মোট ঋণের প্রায় ৪২ দশমিক ৭৬ শতাংশই খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বাণিজ্য খাতের উপখাতগুলোর মধ্যে পাইকারি বাণিজ্যে ঋণের স্থিতি ছিল ৮ হাজার ৪৯ কোটি ৩ লাখ টাকা। এ খাতে খেলাপি ছিল ৪ হাজার ২৬১ কোটি ২১ লাখ টাকা। খুচরা বাণিজ্যে ঋণের স্থিতি ছিল ৩ হাজার ০২৬ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং খেলাপি ৭৩৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। অন্যান্য বাণিজ্যিক ঋণের স্থিতি ছিল ১৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা এবং খেলাপি ১২ কোটি ৭ লাখ টাকা। মার্জিন ঋণ বা শেয়ার লেনদেনের জন্য ঋণের স্থিতি ছিল ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এ খাতে খেলাপি ছিল ৩১৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে, লিজ ফাইন্যান্সের ঋণের স্থিতি ছিল ৩ হাজার ৯০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং খেলাপি ছিল ১ হাজার ৩২২ কোটি ৯ লাখ টাকা। জুন মাসে বাণিজ্য ও কমার্স খাতে ঋণ বিতরণ হয়েছে ১ হাজার ৪১১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। একই সময়ে আদায় হয়েছে ১ হাজার ৭৪০ কোটি ৫ লাখ টাকা।
দুই খাতে ৬৪.০৬ শতাংশ ঋণ
শিল্প ও বাণিজ্য খাতের ঋণ একত্র করলে মোট ৫০ হাজার ৪০ কোটি ৩২ লাখ টাকা দাঁড়ায়। মোট ৭৮ হাজার ১১৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকার ঋণের মধ্যে এই দুই খাতের অংশ ৬৪ দশমিক ০৬ শতাংশ। অর্থাৎ, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট ঋণের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই শিল্প ও বাণিজ্য খাতে রয়েছে। এর মধ্যে শিল্প খাত একাই মোট ঋণের ৪৪ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং বাণিজ্য খাত ১৯ দশমিক ৯১ শতাংশ ধারণ করছে। তবে খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রেও এই দুই খাত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। মোট ১৮ হাজার ৪৩২ কোটি ১৯ লাখ টাকা খেলাপি ঋণের মধ্যে শিল্প খাতে রয়েছে ৭ হাজার ৮৭১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং বাণিজ্য খাতে ৬ হাজার ৬৪৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ, দুই খাত মিলে মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৭৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ রয়েছে।
নির্মাণ খাতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা
আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের তৃতীয় বৃহত্তম খাত নির্মাণ। জুন মাস শেষে, নির্মাণ খাতে ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৯৯৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এই খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ১ হাজার ৪২৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। নির্মাণ খাতের মধ্যে আবাসন খাতে ঋণের স্থিতি ছিল ৫ হাজার ১৮০ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং খেলাপি ৮১১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। আবাসন ছাড়া অন্যান্য নির্মাণ খাতে ঋণের স্থিতি ছিল ৪ হাজার ৮১৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা এবং খেলাপি ৬১৮ কোটি ৩ লাখ টাকা।
জুন মাসে নির্মাণ খাতে ঋণ বিতরণ হয়েছে ৩২৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এ সময়ে আদায়ের পরিমাণ ছিল ৬৭৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা।
ভোক্তা ঋণে ৯ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা
ভোক্তা অর্থায়নেও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উল্লেখযোগ্য ঋণ রয়েছে। জুন মাস শেষে, ভোক্তা অর্থায়ন খাতে ঋণের স্থিতি ছিল ৯ হাজার ৮৫৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এ খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৫০ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
জুন মাসে ভোক্তা অর্থায়নে ঋণ বিতরণ হয়েছে ৮২০ কোটি ৩ লাখ টাকা। একই সময়ে ঋণ আদায় হয়েছে ১ হাজার ১১০ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ
অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ খাতে জুন মাস শেষে ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৮৬ কোটি ৬ লাখ টাকা। এ খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে এই খাতে ঋণ বিতরণ হয়েছে ৩২০ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং আদায় হয়েছে ২৫৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
পরিবহন খাতে ঋণ ১ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা
পরিবহন খাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের স্থিতি ছিল ১ হাজার ৪৮৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এ খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৪৪৫ কোটি টাকা। পরিবহন খাতের মধ্যে সড়ক পরিবহনে ঋণের স্থিতি ছিল ১ হাজার ২৩৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং ওভারডিউ ৩২৮ কোটি ২১ লাখ টাকা। নৌপরিবহনে ঋণের স্থিতি ছিল ২২৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং খেলাপি ১০৬ কোটি ৩ লাখ টাকা। বিমান পরিবহনে ঋণের স্থিতি ছিল ২৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা এবং ওভারডিউ ১০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
কৃষি, মৎস্য ও বন খাত
কৃষি, মৎস্য ও বন খাতেও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ রয়েছে। জুন মাস শেষে, এই খাতে মোট ঋণের স্থিতি ছিল ৭০০ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং খেলাপি ২২১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাতে ঋণের স্থিতি ছিল ৬৫৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা এবং খেলাপি ১৮৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। মৎস্য খাতে ঋণের স্থিতি ছিল ৪৬ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং খেলাপি ৩৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা। বন ও লগিং খাতে প্রতিবেদনে কোনো ঋণ স্থিতি বা ওভারডিউ দেখানো হয়নি।
মোট খেলাপি ১৮ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা
আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো খেলাপি। জুন মাস শেষে, মোট ওভারডিউ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৪৩২ কোটি ১৯ লাখ টাকা। মোট ঋণ স্থিতির তুলনায় খেলাপির পরিমাণ প্রায় ২৩ দশমিক ৬০ শতাংশ। মোট খেলাপির মধ্যে শিল্প খাতে রয়েছে ৭ হাজার ৮৭১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং বাণিজ্য খাতে ৬ হাজার ৬৪৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা। নির্মাণে ১ হাজার ৪২৯ কোটি ৪৭ লাখ, পরিবহনে ৪৪৫ কোটি, ভোক্তা অর্থায়নে ৯৫০ কোটি ২৮ লাখ, অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ঋণে ৮৬৩ কোটি ৮৭ লাখ এবং অন্যান্য বা বিবিধ খাতে ১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা খেলাপি রয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে খেলাপি ঋণকে "ওভারডিউ" নামে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগের প্রান্তিকের তুলনায় খেলাপি কমেছে
চলতি বছরের মার্চ মাস শেষে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট ঋণের স্থিতি ছিল ৭৮ হাজার ৪২৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। জুন মাস শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ১১৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ, এক প্রান্তিকের ব্যবধানে মোট ঋণের স্থিতি কমেছে ৩১০ কোটি ২১ লাখ টাকা। একই সময়ে মোট ঋণ বিতরণ মার্চ প্রান্তিকের ৫ হাজার ৫৭৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা থেকে বেড়ে জুন প্রান্তিকে ৫ হাজার ৭৩৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ, তিন মাসে বিতরণ বেড়েছে ১৫৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।
তবে ঋণ আদায়ের পরিমাণ কমেছে। মার্চ মাস শেষে আদায় ছিল ৭ হাজার ৮৪৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। জুন মাস শেষে তা নেমে এসেছে ৭ হাজার ৪১৫ কোটি ১৫ লাখ টাকায়। অর্থাৎ, আদায় কমেছে ৪৩১ কোটি ৭১ লাখ টাকা। অন্যদিকে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ মার্চ মাস শেষে ছিল ১৮ হাজার ৭৯৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। জুন মাস শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৪৩২ কোটি ১৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ, তিন মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে ৩৬৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
ঋণের বড় অংশ উৎপাদন ও বাণিজ্যনির্ভর
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রান্তিক পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে শিল্প ও বাণিজ্য রয়েছে। মোট ঋণের ৪৪ দশমিক ১৫ শতাংশ শিল্প খাতে এবং ১৯ দশমিক ৯১ শতাংশ বাণিজ্য খাতে থাকায়, দুই খাত মিলিয়ে ঋণের ৬৪ দশমিক ০৬ শতাংশ কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
এর বাইরে, নির্মাণ খাতে ৯ হাজার ৯৯৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা, ভোক্তা অর্থায়নে ৯ হাজার ৮৫৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা, অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ঋণে ৬ হাজার ৮৬ কোটি ৬ লাখ টাকা, পরিবহন খাতে ১ হাজার ৪৮৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা এবং কৃষি, মৎস্য ও বন খাতে ৭০০ কোটি ৯১ লাখ টাকা ঋণের স্থিতি রয়েছে। বিবিধ খাতে ঋণের স্থিতি ছিল ৩৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী মন্তব্য করেছেন যে, ছোট ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে ঋণ অনুমোদন ও পরিশোধের সময় তুলনামূলকভাবে কঠোর নজরদারি থাকলেও, বড় ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে প্রভাবশালী যোগাযোগ ও বিশেষ সুবিধার কারণে আদায় প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, ঋণের অর্থ ব্যবসার উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত আয় তৈরি করতে পারে না; ফলে সময়মতো ঋণ পরিশোধও কঠিন হয়ে পড়ে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন