প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ২৩ জন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছুটির বিধি লঙ্ঘন করে টাঙ্গাইলের মধুপুরে গিয়ে সাবেক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সংবর্ধনা দিয়েছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের মধ্যে ১৪ জন প্রধান শিক্ষক ও ৯ জন সহকারী শিক্ষক।
গত ১৬ আগস্ট মধুপুর উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ে একসঙ্গে ওই শিক্ষকদের উপস্থিত থাকার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে তাঁদের সবাই যথাযথ নিয়মে ছুটি নিয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শিক্ষা অফিস ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পূর্বধলার সাবেক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মফিদুল হক বদলি হয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুরে যাওয়ার পর তাঁকে অভিনন্দন জানাতে ওই শিক্ষকেরা সেখানে যান। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২৩ শিক্ষকের মধ্যে ১০ জন নৈমিত্তিক ছুটি (সিএল) নিয়েছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি ১৩ জনের ছুটির বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে গিয়ে কয়েকটি বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় অসংগতির তথ্য পাওয়া গেছে। ১৪ জন প্রধান শিক্ষকের মধ্যে অন্তত ৭ জনের হাজিরা খাতায় সংশ্লিষ্ট দিনের নিয়মিত উপস্থিতির স্বাক্ষর রয়েছে।
খিদিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোকন উদ্দিনের হাজিরা খাতায় একটি স্বাক্ষরের ঘর হোয়াইট ফ্লুইড দিয়ে মুছে সেখানে লাল কালিতে ‘সিএল’ লেখা দেখা গেছে।
এ বিষয়ে তাঁর কাছে টাঙ্গাইল যাওয়ার কারণ ও ছুটির নিয়ম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, তা কর্তৃপক্ষ জানে। আপনাকে কেন বলব?”
এ ছাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজিব হোসেন, কালডোয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফসারী বেগম, খলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল সরকার, মেঘশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম খান, হ্যাপি বেবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহাব খান, গোপীনাথকিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সপ্তর্ষি চন্দ্র এবং নোয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমন সরকারের হাজিরা খাতায়ও উপস্থিতির স্বাক্ষর থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
তাঁদের ভাষ্য, তাঁরা সিএল না নিলেও যথাযথ কর্তৃপক্ষের মৌখিক অনুমতি নিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেছিলেন।
‘অন্য জেলায় যেতে হলে আবেদনে উল্লেখ করতে হবে’
তবে শিক্ষকদের এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, কতজন শিক্ষক নৈমিত্তিক ছুটি নিয়েছেন, সে বিষয়ে তাঁর কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে অন্য জেলায় যাওয়ার কোনো বিধান নেই।
ফজলুর রহমানের ভাষ্য, বিশেষ কোনো প্রয়োজনে অন্য জেলায় যেতে হলে ছুটির আবেদনের সময়ই বিষয়টি উল্লেখ করতে হয়।
আগে জানতেন না মফিদুল হক
শিক্ষকেরা যে কর্মকর্তাকে অভিনন্দন জানাতে মধুপুরে গিয়েছিলেন, সেই সাবেক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মফিদুল হকের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, শিক্ষকেরা হঠাৎ তাঁর কার্যালয়ে এসেছিলেন। তাঁদের আসার বিষয়টি তিনি আগে থেকে জানতেন না। তাঁরা কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর তিনি বিষয়টি জানতে পারেন।
তদন্তের কথা বলছে প্রশাসন
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনজুরুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন। পরে তিনি বলেন, কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কর্মস্থল ত্যাগ, ছুটি নেওয়া এবং হাজিরা খাতায় উপস্থিতি দেখানোর ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়েছিল কি না—এ প্রশ্নের নিরপেক্ষ উত্তর পেতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই ও প্রশাসনিক তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন