প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
'লাদাখের সমাজকর্মী, শিক্ষা সংস্কারক ও পরিবেশবাদী সোনম ওয়াংচুকের জীবন রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। তিনি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে ১৯ দিন ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে আমরণ অনশন করছেন।
বুধবার দায়ের করা একটি আবেদনের শুনানিতে বৃহস্পতিবার আদালত মন্তব্য করেছেন যে, সোনম ওয়াংচুকের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। আদালতের পর্যবেক্ষণ হলো, প্রতিটি নাগরিকের জীবন মূল্যবান এবং তা রক্ষায় কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ চেষ্টার প্রয়োজন রয়েছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক যদি অনশন না ভাঙেন, তাহলে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তার মৃত্যু হতে পারে। অভিযোগ করা হয় যে, সরকার পরিস্থিতির প্রতি যথেষ্ট উদ্বিগ্ন নয়। অনশনের ফলে তার ওজন সাড়ে ৮ কেজি কমে গেছে এবং রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রাও কমেছে।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওয়াংচুককে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, ভিটামিন এবং খনিজ, প্রয়োজনে তরল আকারে, সরবরাহ করা উচিত। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করা নাগরিকের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে যদি ওয়াংচুক মারা যান, তা দেশের জন্য এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশাল লজ্জার বিষয় হবে।
শুনানিতে আদালত জানতে চান, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য কেন নিরবচ্ছিন্ন সরকারি তদারকি নেই। সরকারপক্ষের জবাবে বলা হয়, প্রতিদিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে, কিন্তু সব সময় সরকারি চিকিৎসক উপস্থিত থাকেন না; কখনও বেসরকারি চিকিৎসকরাও দায়িত্ব পালন করেন।
এ সময় আদালত নির্দেশ দেন যে, ওয়াংচুক যেন প্রতিদিন সরকারি চিকিৎসকদের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পান এবং সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আদালত উল্লেখ করেছে, প্রয়োজন হলে ওষুধও দিতে হবে। প্রতিটি জীবনই মূল্যবান।
আদালতের নির্দেশের কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ওয়াংচুক জানান, অনশনে থাকা সত্ত্বেও তার শারীরিক অবস্থা এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক উদ্যোগ না আসা পর্যন্ত অনশন ভাঙবেন না বলেও জানান।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি ততটা খারাপ নয়। দুর্বলতা থাকলেও তিনি এখনও হাঁটতে পারছেন। শুধু অনশন ভাঙার আহ্বানই জানিয়ে শেষ নয়, বরং তিনি ২০ জুলাই বিপুল সংখ্যক মানুষকে যন্তর মন্তরে এসে সরকারের কাছে বার্তা পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদেরও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
গত ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে গত ২৮ জুন থেকে সোনম ওয়াংচুক আমরণ অনশন শুরু করেন।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া জনপ্রিয় চলচ্চিত্র থ্রি ইডিয়টস-এ আমির খান অভিনীত ফুনশুখ ওয়াংড়ু চরিত্রটি সোনম ওয়াংচুকের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত হয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন