প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিজয় থালাপাতির নেতৃত্বাধীন তামিলনাড়ুর ক্ষমতাসীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্রের ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মাসের শেষদিকে এই ষড়যন্ত্রের কথা ফাঁস হওয়ার পর তদন্তে নামে চেন্নাই পুলিশের একটি বিশেষ তদন্ত দল।
এ ঘটনাতে জড়িত সন্দেহে একজন সিনিয়র টেলিভিশন সাংবাদিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তের সময় তামিলনাড়ুর পূর্ববর্তী ক্ষসতাসীন দল ডিএমকের সাথে সম্পর্কিত কিছু প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। সাবেক মন্ত্রী ও ডিএমকে নেতা সেন্থিল বালাজি এবং তার ভাই অশোক বালাজিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে চেন্নাই পুলিশ।
সিনেসার জনপ্রিয় নায়ক থেকে জননায়ক বনে যাওয়া জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর, যিনি থালাপাতি বিজয় নামে পরিচিত, গত ১০ মে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
তারপরের মাসেই তার সরকারকে উৎখাত করার উদ্দেশ্যে একটি ষড়যন্ত্র শুরু হয়। সমীক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও ইউটিউবার তিরুনাভুক্কারাসুকে সামনে রেখে বিজয় সরকারকে উৎখাতের জন্য ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য এবং তাদের বিভিন্ন ডিভাইসের ফরেনসিক বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, এ ষড়যন্ত্রের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘প্রজেক্ট মেঘালয়া’। ষড়যন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য উপলব্ধি করা হয়েছে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে বিজয়ের দলের টিভিকের অন্তত ১৫ জন বিধায়ককে কিনে ফেলা।
ফ্লোর ক্রসিঙের আইনী জটিলতা থেকে এড়াতে সরকার বিরোধী অনাস্থা না এনে প্রথমে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার ষড়যন্ত্র হবে এবং এরপর ১৫ জন বিধায়ক একসাথে পদত্যাগ করলে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে।
গত নির্বাচনে টিভিকে ১০৮টি আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ হয়েছে। তবে ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য দরকার ছিল ১১৮টি আসন। কয়েকটি ছোট দলের সমর্থনে বিজয় তামিলনাড়ুর ইতিহাসে প্রথমবারের মত জোট সরকার গঠন করেছেন।
জুন মাসের শেষ সপ্তাহে উথানগারাই কেন্দ্রের টিভিকে বিধায়ক এন ইলাইয়ারাজার সাথে তিরুনাভুক্কারাসু যোগাযোগ করেন। তিনি একটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের বড় নেতাদের নাম উল্লেখ করে ইলাইয়ারাজাকে বিধানসভায় দলীয় হুইপের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ভোট দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এর বিনিময়ে ৩৫ কোটি রুপি দেওয়ার লোভ দেখানো হয়। বিধায়ক ইলাইয়ারাজা সরাসরি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এরপর ষড়যন্ত্রকারীরা তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের খুনের হুমকি দিতে শুরু করেন। যাইহোক, হুমকিকে ভয় না পেয়ে বিধায়ক ইলাইয়ারাজা ২৯ জুন চেন্নাই পুলিশ কমিশনারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। ওই সময়ে ‘প্রজেক্ট মেঘালয়া’র খবর ফাঁস হয়।
পুলিশ মূল অভিযুক্ত তিরুনাভুক্কারাসুসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের ফোন, চ্যাট রেকর্ড এবং ডিজিটাল ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষায় পুলিশ দেখতে পায়, মূল অভিযুক্ত তিরুনাভুক্কারাসুর সাথে পুথিয়া থালাইমুরাই চ্যানেলের সিনিয়র সাংবাদিক বিজয়নের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার পুলিশ বিজয়নকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং তার ফোনটি জব্দ করেছে। তবে চেন্নাই প্রেসক্লাব পুলিশের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে এটিকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দমন করার চেষ্টা বলে অভিহিত করেছে। ক্লাবটি জানিয়েছে যে, ১৫ জুলাই গভীর রাত পর্যন্ত বিজয়নেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, সঠিক প্রক্রিয়া ছাড়াই তার ফোন জব্দ করা হয় এবং পর দিন আবারও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়। যদিও পুলিশ দাবি করেছে, তারা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজয়নকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে সাবেক মন্ত্রী ও ডিএমকে নেতা সেন্থিল বালাজি এবং তার ভাই অশোক বালাজির সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তাদের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে পুলিশ। সেন্থিল বালাজির সাথে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সম্পর্কের বৈরিতা পুরোনো। গত বছর সেপ্টেম্বরে কারুরে বিজয়ের একটি নির্বাচনী জনসভায় পদদলিত হয়ে ৪১ জন মারা যান, সেই ঘটনায় বিজয় ডিএমকে এবং সেন্থিলকে দায়ী করেছিলেন। সেন্থিল কারুর এলাকায় প্রভাবশালী বিধায়ক। তবে ডিএমকে এ ধরনের ষড়যন্ত্রের সাথে নিজেদের জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন