প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অবরোধ ঘোষণার পর বিভিন্ন শহর ও জনপদে অভিযান চালিয়ে বহু ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরাইলি বাহিনী অধিকৃত পশ্চিম তীরে।
শনিবার আলজাজিরার সংবাদদাতাদের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলে অন্তত ১৫টি শহর ও জনপদে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। হেবরনে দুই ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পুরো পশ্চিম তীরে অবরোধের নির্দেশ দেন।
অভিযানের লক্ষ্য ছিল পশ্চিম তীরের নাবলুস, জেনিন, তুবাস ও কালকিলিয়া সহ কয়েকটি শহর ও জনপদ। নাবলুসের জালুদ ও কারিউত গ্রামে ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে ইসরাইলি বাহিনী। জেনিনের কাছে আরাবেহ ও বুরকিনেও আটক হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তুবাস ও এর কাছের আক্কাবা শহরে প্রবেশ করে ইসরাইলি সেনারা।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলে হেবরনে তিনতলা একটি ভবন গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইলি বুলডোজার। ভবনটির বাসিন্দাদের মালপত্র সরানোর জন্য মাত্র পাঁচ মিনিট সময় দেওয়া হয়। একই সময়ে হেবরনের আইন দেইর বাহা এলাকা ও আশপাশের কয়েকটি জায়গা থেকে শত শত ফিলিস্তিনি পরিবারকে জোর করে বাড়িঘর ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হেবরনে দুই ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির বাড়িও ঘিরে ফেলে ইসরাইলি সেনারা। এ সময় শহরের আল-জালদা এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
শুক্রবার গভীর রাতে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, হেবরনে তাদের অভিযান শুরু হয়েছে। এই অভিযান কয়েক দিন ধরে চলবে। পাশাপাশি পশ্চিম তীরের অসংখ্য এলাকায় অন্যান্য বাহিনীর অভিযানও চলবে বলে জানানো হয়েছে।
পশ্চিম তীরের পূর্বাঞ্চলে জেরিকো শহর ও এর কাছের আকাবাত জাবর শরণার্থীশিবিরেও প্রবেশ করে ইসরাইলি বাহিনী।
অবরোধের ফলে পশ্চিম তীরজুড়ে প্রায় এক হাজার তল্লাশিচৌকি ও প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এতে লাখ লাখ ফিলিস্তিনির চলাচল ব্যাহত হবে।
শুক্রবার ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, তেলেম নামের একটি ইসরাইলি বসতির কাছে রিজার্ভ সেনাদের একটি ব্যাটালিয়নের ওপর হামলা চালানো দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীকে হত্যা করেছে তারা। ওই হামলায় দুই ইসরাইলি সেনা নিহত হন। এর কিছুক্ষণ পরেই পশ্চিম তীরে পূর্ণ অবরোধের নির্দেশ দেন নেতানিয়াহু।
ইসরাইলের জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা জানিয়েছে, নিহত দুই সেনা ছাড়াও অন্তত তিনজন ইসরাইলি সেনা আহত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, তেলেমসহ অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপন অবৈধ।
এই হামলা ও অবরোধের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী ও সেনাদের সহিংস হামলার পাশাপাশি জলপাই সংগ্রহকারী ফিলিস্তিনিদের ওপরও হামলার ঘটনা বেড়েছে। মঙ্গলবারের ইসরাইলি নির্বাচনের আগে এসব সহিংসতা আরও বাড়ছে।
ইসরাইলের উগ্রইহুদি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির দুই সেনা নিহত হওয়ার পর পশ্চিম তীরের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে ইসরাইলি সরকার সেখানে আরো বহু বসতি নির্মাণে উৎসাহ দিচ্ছে।
ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক দল প্যালেস্টিনিয়ান ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভের মহাসচিব মুস্তাফা বারঘুতি বলেছেন, ইসরাইলের উগ্রইহুদি মন্ত্রীদের উসকানিমূলক বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করছে।
আলজাজিরাকে তিনি বলেন, অবরোধের ফলে পশ্চিম তীরের প্রতিটি শহর ও গ্রাম ‘ছোট কারাগারে’ পরিণত হবে। তল্লাশিচৌকি ও প্রবেশপথ বন্ধ থাকায় স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি ও শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে।
বারঘুতি সতর্ক করে বলেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর সমষ্টিগত শাস্তি চাপিয়ে দিলে পরিস্থিতির বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।
এএম
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন