প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তান একসময় বিশ্ব ক্রিকেটে দাপট দেখাতে সক্ষম হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন। ইমরান খানের সময় এবং জাভেদ মিয়াঁদাদ, সাঈদ আনোয়ার, ইনজামাম-উল-হক, ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস ও শোয়েব আখতারের মতো তারকা খেলোয়াড়রা একপ্রকার প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্ক হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু সেই সোনালী দিনগুলো এখন অতীত। বর্তমানে পাকিস্তান দল সাফল্য খুঁজতে বেশ কিছুটা সময় ব্যয় করছে।
পুরুষ দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতার প্রভাব কেবল পুরুষদের উপর সীমাবদ্ধ নয়, নারীদের দলেও পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাফল্যের চেয়ে পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের পরিচিতি হয়ে দাঁড়িয়েছে বিতর্ক। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত দলটি বিজয়ের স্বাদ খুব একটা পায়নি।
এর আগে আয়ারল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের সময়ও জয় না পাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ধারাবাহিক এই ব্যর্থতা দলের মধ্যে চাপ ও অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে এবং মাঠের বাইরের বিতর্কগুলোকেও উস্কে দিয়েছে।
এমন একটি পরিস্থিতিতে পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিতর্ক আবারও চরমে পৌঁছেছে। সিনিয়র ক্রিকেটার আলিয়া রিয়াজের হোটেল রুমে স্বামী আসা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সিনিয়র খেলোয়াড় আলিয়া রিয়াজ তার হোটেল রুমে স্বামী আলী ইউনুসকে নিয়ে আসার ফলে অধিনায়ক ফাতিমা সানা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। তিনি বিষয়টিকে দলের শৃঙ্খলা ও প্রোটোকল ভঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে স্বামীকে রুম থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।
পরে, বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের পূর্বে নির্ধারিত অনুশীলন এড়িয়ে আলিয়া স্বামীর সঙ্গে বাইরেই সময় কাটান, যা অধিনায়কের অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে তোলে। এই কারণে আলিয়ার একাদশে থাকা না থাকার পক্ষে দাবিও তোলে ফাতিমা সানা।
কিন্তু অধিনায়কের আপত্তিকে অগ্রাহ্য করে কোচ ওয়াহাব রিয়াজ আলিয়াকেই চূড়ান্ত একাদশ ঘোষণা করেন। ঐ ম্যাচে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ২৩ রানে পরাজিত করে, যেখানে আলিয়া ব্যাট হাতে কোন রান করতে পারেননি।
পরাজয়ের পর অধিনায়ক ফাতিমা সানা কোচিং স্টাফের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার অভিযোগ, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোচিং ইউনিট ব্যর্থ হচ্ছে।
অন্যদিকে, কোচের দাবি, খেলোয়াড়রা মাঠে পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারছেন না, যার ফলে ধারাবাহিক ব্যর্থতা দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।
এদিকে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও, দলের ভেতরের এই দ্বন্দ্ব এবং বিভাজন নিয়ে ক্রিকেট মহলে আলোচনা চলছে।
গত কয়েক বছরে একাধিক কোচ পরিবর্তন করলেও পাকিস্তান মহিলা দল সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। বর্তমান ব্যর্থতার সঙ্গে যুক্ত হওয়া এই বিতর্ক দলটির সংকটটিকে আরও গভীর করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন