প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এক ব্যক্তিকে সৌদি আরবে পাঠিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের পৃথক ধারায় তিন ভাইকে ১৯ বছর এবং তাদের বোনকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি চার আসামিকে ৬ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং অনাদায়ে আরও ১১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বরিশালের মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সোহেল আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় সৌদি প্রবাসী তিন ভাই আদালতে পলাতক ছিলেন। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত বোন রেশমা বেগম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ পানবাড়িয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী রাশেদ হাওলাদার, রাসেল হাওলাদার, টিপু হাওলাদার এবং তাঁদের বোন রেশমা বেগম।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী আহিদা খাতুনের স্বামী শহিদুল ইসলাম পেশায় একজন স্যানিটারি মিস্ত্রি ছিলেন। আসামিরা তাঁকে সৌদি আরবে ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ৫ লাখ টাকায় পাঠানোর প্রস্তাব দেন। পরে শহিদুল ইসলাম ৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা পরিশোধের পর ২০২২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তাঁকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সৌদি আরবে নেওয়ার পর তাঁকে একটি কক্ষে আটকে রেখে আরও ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। অতিরিক্ত টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। পরে তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় আহিদা খাতুন চারজনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে কাউনিয়া থানা-পুলিশ তদন্ত শেষে চার ভাই-বোনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
মামলাটির সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার ভিত্তিতে রায় প্রদান করেন। আদালত অর্থদণ্ডের টাকা ভুক্তভোগীকে দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে।
রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত রেশমা বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আদালত পলাতক তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন