প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ১৬৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ ও যাবতীয় সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও প্রায় এক মাস ধরে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে সেবা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। এর ফলে শিক্ষকদের হাজিরা প্রদান, দাপ্তরিক যোগাযোগ এবং অন্যান্য অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষকরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ পুনর্বহাল করা না হলে প্রাথমিক শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের ‘ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন (ইডিসি)-১ম সংশোধিত’ প্রকল্পের আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই প্রকল্পের অধীনে ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে গ্রামীণ টেলিকম এবং রাজশাহীর ‘এশিয়া প্যাসিফিক কমিউনিকেশন লিমিটেড (এপিসি)’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান গোদাগাড়ীর ১৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে মাসিক ১২০০ টাকায় ২০ এমবিপিএস গতির সংযোগ প্রদান করে। তবে সংযোগ দেওয়ার পর কিছুদিন সচল থাকলেও বর্তমানে সেবাটি প্রায় পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে।
ফলে বিদ্যালয়গুলোর অনলাইন দাপ্তরিক যোগাযোগ ও প্রশাসনিক নানা কাজ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জরুরি দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করতে শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত মোবাইল ডাটা ব্যবহার করছেন। আবার অনেক বিদ্যালয়ে বাড়তি টাকা খরচ করে স্থানীয়ভাবে বিকল্প ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে।
মহিশালবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ মন্তব্য করেন, "ইন্টারনেট সেবা চালুর পর দাপ্তরিক কাজের গতি অনেক বেড়েছিল। কিন্তু গত ১৫ দিন ধরে সংযোগ থাকলেও ইন্টারনেট পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। প্রতিদিন তথ্য আদান-প্রদান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা গ্রহণ এবং হোয়াটসঅ্যাপে হাজিরা পাঠানোর জন্য ইন্টারনেটের প্রয়োজন হয়। বাধ্য হয়ে আমরা ব্যক্তিগত ডাটা দিয়ে কাজ চালাচ্ছি।"
শেখেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহরাব হোসেন জানান, শুরুতে সার্ভিস ভালো থাকলেও পরে ধীরগতি এবং ঘন ঘন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। বর্তমানে সংযোগ প্রায় পুরোটাই অচল হয়ে গেছে।
একই অভিযোগ করেছেন গোদাগাড়ী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আলিপুর, ঘনশ্যামপুর, সারেংপুর, হরিণবিস্কা এবং সুলতানগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ।
এ বিষয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এশিয়া প্যাসিফিক কমিউনিকেশন লিমিটেডের নেটওয়ার্ক অপারেশন ম্যানেজার রাকিবুল ইসলাম বলেন, "ক্যাবল চুরি ও সার্ভার জটিলতার কারণে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে সেবা পুরোপুরি বন্ধ থাকার দাবিটি সঠিক নয়।"
গোদাগাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুন মুন সুলতানা জানান, বিভিন্ন স্কুল থেকে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে। তিনি আরও জানান, ইডিসি প্রকল্পের আওতায় থাকা ৮৯টি বিদ্যালয়ে এক মাস ধরে কারিগরি ত্রুটি রয়েছে, তবে বাকি ৭৫টি স্কুলে গ্রামীণ টেলিকমের সংযোগ সচল রয়েছে।
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান বলেন, "উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট সংযোগে কারিগরি ত্রুটির অভিযোগ পেয়েছি। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএইচ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন