প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কলম্বো টেস্টে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প রচনা করেছে শ্রীলঙ্কা। যদিও ভারত জেতার অবস্থানে ছিল, শেষ পর্যন্ত জয় লাভ করা সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয় ইনিংসে ফলোঅনে নেমে শ্রীলঙ্কা দারুণ ধৈর্যশীল ব্যাটিং প্রদর্শন করে ম্যাচটি ড্র করে মাঠ ছেড়েছে।
ভারত নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে পারত, ফলোঅন না করিয়ে। তবে বৃষ্টির সম্ভাবনা মাথায় রেখে তারা শ্রীলঙ্কাকে ব্যাটিংয়ে নামতে দেয়। ম্যাচ শেষে ফলোঅনের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন ভারতের অধিনায়ক শুবমান গিল।
গিল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, “ড্র’টা আসলে হারের মতো কষ্ট দিচ্ছে না। পরিস্থিতি বিবেচনায় ড্রটা শ্রীলঙ্কার জন্য কৃতিত্বের ব্যাপার। আমরা জিততে চেয়েছিলাম, তাই হতাশ তো অবশ্যই। সবকিছু সবসময় পরিকল্পনা অনুযায়ী হয় না। অধিনায়ক হিসেবে আমার জন্যও এখানে অনেক কিছু শেখার আছে। তবে সবার প্রচেষ্টা ও জয়ের মানসিকতার জন্য আমি ১০-এ ১০ দেব।”
ফলোঅন নিয়ে গিলের ব্যাখ্যা ছিল, “আমার মনে হয় না ফলো-অন করানোর সিদ্ধান্তটা হিতে বিপরীত হয়েছে। আমরা ২৫০ ওভারেরও বেশি সময় ফিল্ডিং করেছি। বৃষ্টির সম্ভাবনা মাথায় রেখে আমরা সেই ঝুঁকিটা নিতে চেয়েছিলাম। আমরা যদি ফলো-অন না করাতাম এবং পরে বৃষ্টি হতো, তখন আপনারাই প্রশ্ন করতেন, ‘ফলো-অন করানো হলো না কেন?’ এগুলো সবই পরে বসে বিচার করা। যে পরিস্থিতি তখন ছিল, সেই অনুযায়ী আপনাকে সম্ভাব্য সেরা সিদ্ধান্তটাই নিতে হবে। আমার মনে হয় না সিদ্ধান্তটা আমাদের বিপক্ষে গেছে। তারা খুব ভালো খেলেছে। কিছু বিষয় আমাদের পক্ষে যায়নি।”
শুবমান গিল আরও জানিয়েছেন, “আমার মনে হয় শ্রীলঙ্কা খুব ভালো খেলেছে। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে এলবিডব্লিউ ও বোল্ড, এই দুইভাবে আউট করার সুযোগ প্রায় ছিলই না। শুরুতে আমরা আক্রমণাত্মক ছিলাম, কিন্তু আজ পিচ আরও ধীর হয়ে যায়। বল ধীরে ঘুরছিল। পিচ ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ হয়ে গিয়েছিল। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। চতুর্থ দিনে আমরা সুযোগ তৈরি করেছিলাম। তখন যদি উইকেট পেতাম, ফলাফলটা ভিন্ন হতে পারত।”
গিলের মতে, “এমন পরিস্থিতিতে আমরা অনেক আক্রমণ করেছি, কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের ওপরও কিছুটা চাপ ছিল। তাই একসময় আমাদের আক্রমণের মাত্রা একটু কমাতে হয়েছে। তবে আমার মনে হয় পিচটা ক্রমেই ধীর হয়ে যাচ্ছিল। এমন নয় যে বল একেবারেই ঘুরছিল না, কিন্তু উইকেট নেওয়ার মতো জায়গায় বল যাচ্ছিল না। একজন ব্যাটার যখন জানে এলবিডব্লিউ ও বোল্ড হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তখন ব্যাটিং অনেক সহজ হয়ে যায়, বিশেষ করে যখন তার রান করার তাড়াও থাকে না।”
ভারতের অধিনায়ক আরও বলেছেন, “আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। তারাও (শ্রীলঙ্কা) খুব ভালো খেলেছে। এমন নয় যে পিচটা পুরোপুরি ফ্ল্যাট ছিল। তাই ভালো খেলার জন্য তারা কৃতিত্ব পাওয়ার যোগ্য। চতুর্থ দিনে আমরা সুযোগ ও মোমেন্টাম তৈরি করেছিলাম। তখন যদি একটি বা দুটি উইকেটও নিতে পারতাম, তাহলে হয়তো ফলাফলটা অন্যরকম হতো।”
গিল জানিয়েছেন, “প্রশ্ন ছিল, চতুর্থ দিনে দেড় সেশন অপেক্ষা করে তাদের প্রায় ৪০০ রানের লক্ষ্য দেব, নাকি ফলো-অন করিয়ে প্রয়োজন হলে নিজেরা ১০০ রান তাড়া করব? আমরা মনে করেছি, তাড়া করে জেতার পরিস্থিতিটাই আমাদের জন্য বেশি স্বস্তিদায়ক হবে। কারণ তখন হাতে থাকা সময় অনুযায়ী আমরা পরিকল্পনা করে রান তুলতে পারতাম।”
দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে ভারত জয়ী হয়েছিল। দ্বিতীয় ম্যাচ ড্র হলেও, সিরিজটি ১-০ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে টিম ইন্ডিয়া।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন