প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় সরকারি বিধিমালা ও চুক্তি লঙ্ঘন করে কোটি টাকা ব্যয়ের একটি নির্মাণাধীন ব্রিজে স্টিলের পরিবর্তে মানহীন কাঠ ও বাঁশের সাটারিং ব্যবহারের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, এই অনিয়মের তথ্য ও ভিডিও চিত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কথিত সাইট ম্যানেজারের হাতে সাংবাদিকরা বাধা ও হুমকির শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১ নম্বর চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ চেচরি গ্রামের বান্দাকাটা-কৈখালী সংযোগ সড়কে একটি ছোট নালার ওপর প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে এই ব্রিজটি নির্মাণ করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (আরএইচডি)। সরকারি নকশা ও চুক্তি অনুযায়ী, ব্রিজের শতভাগ কাজে লোহার (স্টিল) সাটারিং ব্যবহার বাধ্যতামূলক। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মাত্র ২০ শতাংশ স্টিল সাটারিং ব্যবহার করে বাকি পুরো অংশে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠ ও বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে। সদ্য ঢালাই হওয়া এই ব্রিজে দুর্বল ও মানহীন কাঠের সাটারিং ব্যবহারের ফলে ব্রিজটির দীর্ঘস্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে ব্রিজের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
এদিকে, সরকারি তদারককারী প্রতিষ্ঠান সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঢালাইয়ের সময় সাইটে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা কিছু জায়গায় কাঠ ব্যবহারের কথা অকপটে স্বীকার করলেও, চুক্তির বাইরে গিয়ে কেন কাঠের সাটারিং মেনে নেওয়া হলো—সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ও সদুত্তর দিতে পারেননি।
অন্যদিকে, এই কাঠামোগত অনিয়মের খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি দল ঘটনাস্থলে অনুসন্ধানে গেলে তারা বাধার মুখে পড়েন। অভি নামের এক ব্যক্তি নিজেকে সাইট ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহে সরাসরি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন। উল্টো সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখাতে তিনি নিজের মোবাইল দিয়ে সাংবাদিকদের ভিডিও চিত্র ধারণ করেন এবং সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও চাপ প্রয়োগ করেন।
কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পে এমন ভয়াবহ জালিয়াতি এবং সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ব্রিজের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এবং দুর্নীতি রুখতে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ী ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন