প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এতে প্রায় ৭ লাখ ৮০ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করতে পারেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারম (আধাসামরিক পুলিশ) মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ।
তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর বরাতে স্থানীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
বিএফএমটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত আন্তঃইউনিয়ন জোটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্যারিসের বাইরের বিক্ষোভে ৫ লাখ থেকে ৭ লাখ মানুষ অংশ নিতে পারে। অপরদিকে, রাজধানী প্যারিসে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজারের মধ্যে হতে পারে।
বিক্ষোভে শ্রমিক, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের কর্মী এবং মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের প্রধান দাবি হলো—বেতন বৃদ্ধি এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু হয়।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বুধবার জানিয়েছেন, বিক্ষোভের নিরাপত্তাব্যবস্থা গত ৩১ অক্টোবরের বিক্ষোভের সময় নেওয়া ব্যবস্থার মতোই থাকবে।
তিনি জানান, নিরাপত্তার দায়িত্বে ২৬টি সাঁজোয়া যান, প্রায় ১৫টি জলকামান, হেলিকপ্টার এবং ড্রোন মোতায়েন করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট বিআরআই, রেইড এবং জিআইজিএন-এর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।
নুনেজ বলেন, বিক্ষোভকারীদের জন্য যতটা সম্ভব নিরাপদ চলাচলের পথ নিশ্চিত করাই এ নিরাপত্তাব্যবস্থার মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে শহরের কেন্দ্রস্থলসহ স্পর্শকাতর এলাকা এড়িয়ে চলার ব্যবস্থা করা হবে।
প্যারিসে বিক্ষোভের রুট নিয়ে বিরোধ
প্যারিসে বিক্ষোভের নির্ধারিত পথ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আয়োজকরা পুলিশের প্রস্তাবিত বিক্ষোভের রুটের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে প্রশাসনিক আদালত পুলিশের দেওয়া রুট বহাল রেখেছে।
পুলিশের নির্ধারিত পথ অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা প্লাস দ্য লা রিপাবলিক থেকে প্লাস দ্য লা নাসিওঁ পর্যন্ত মিছিল করবেন।
এর আগে শ্রমিক ইউনিয়ন ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো প্লাস দ্য লা বাস্তিল থেকে জাতীয় পরিষদের কাছে প্লাস দ্য লা কনকর্ড পর্যন্ত মিছিল করার প্রস্তাব দিয়েছিল।
তবে রাজধানীতে সামাজিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং গত ১৭ অক্টোবরের অস্থিরতার কথা উল্লেখ করে পুলিশ ওই প্রস্তাবিত রুটে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। পরে বিকল্প রুট নির্ধারণ করা হয়।
বিক্ষোভের পাশাপাশি দেশজুড়ে ধর্মঘটের কারণে পরিবহণব্যবস্থায়ও বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফ্রান্সের জাতীয় রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসএনসিএফ জানিয়েছে, আঞ্চলিক ট্রেন চলাচলে মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার বিঘ্ন ঘটতে পারে। প্যারিসের আশপাশের কয়েকটি শহরতলির রেললাইনেও ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে দূরপাল্লার ট্রেন চলাচলে তুলনামূলক কম প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারপরও উচ্চগতির টিজিভি ট্রেনের প্রতি ১০টির মধ্যে একটি বাতিল করা হতে পারে বলে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন