প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
‘বড়লোকের বেটি লো’—বাংলার লোকসংগীতের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় গান নিয়ে আবারও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গানটি বিকৃত করে প্রকাশের অভিযোগে পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত শিল্পী রতন কাহার সাইবার ক্রাইম সেলের সাহায্য নিয়েছেন। অভিযোগ করা হয়েছে যে, একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পেজ থেকে তার সৃষ্ট গানটি বিকৃতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, গানটির স্রষ্টা হিসেবে রতন কাহারের নামও সেখানে উল্লেখ করা হয়নি।
রতন কাহার তার সংগীতজীবন শুরু করেছিলেন ভাদু গান গেয়ে। পরে তিনি নিজেই গান লেখা এবং সুর করার কাজ শুরু করেন। ১৯৭২ সালে তার লেখা ‘বড়লোকের বেটি লো’ গানটি প্রথম গেয়েছিলেন শিল্পী স্বপ্না চৌধুরী। এরপর থেকে গানটি ধীরে ধীরে মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে ২০২০ সালে বলিউডের জনপ্রিয় র্যাপার বাদশার ‘লাল গেন্দা ফুল’ গান প্রকাশিত হওয়ার পর ‘বড়লোকের বেটি লো’ নতুন করে আলোচনায় আসে। বাদশার গাওয়া গানটির সঙ্গে রতন কাহারের সৃষ্টির মিল নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার পর বাদশা প্রকাশ্যে রতন কাহারের কাছে ক্ষমা চান। তিনি শিল্পীকে পাঁচ লাখ রুপি আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেন।
বাদশা তখন বলেছিলেন, ‘আমি জানি রতন কাহার একজন মহান শিল্পী। শুনেছি ওনার অর্থনৈতিক অবস্থাও ভালো নয়। আমি ওনাকে সম্মান দিয়ে সাহায্য করতে চাই।’
কিছু বছর পর, এবার ফের নিজের গান নিয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন রতন কাহার। তার ছেলে দেবাশিস কাহারও এ ঘটনায় সক্রিয় হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি পেজ থেকে গানটির বিকৃত সংস্করণ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, গানের স্রষ্টার নাম বাদ দেওয়ায় বিষয়টি আরো গুরুতর বলে মনে করছেন তারা।
বীরভূমের সিউড়ির বাসিন্দা রতন কাহার দীর্ঘ সংগীতজীবনে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও লোকসংগীতের চর্চা চালিয়ে গেছেন। ‘বড়লোকের বেটি লো’ গানটি আজও বাংলার মানুষের মুখে মুখে ফেরে। সংগীতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পদ্মশ্রী সম্মানও পেয়েছেন এই শিল্পী। তবে সম্মান ও পরিচিতি পাওয়ার পরও জীবনের একটি দীর্ঘ সময় তিনি আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে কাটাতে বাধ্য হয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন