প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অল্পদিনেই নষ্ট হচ্ছে লাইট-ফ্যান-সুইচ, পণ্য পরিবর্তনে টালবাহানার অভিযোগ; ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা চেয়েছেন ক্রেতারা
বরিশাল নগরীর বাংলাবাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের ইলেকট্রনিক সামগ্রী বিক্রির অভিযোগ উঠেছে আরিফ ইলেকট্রনিক্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটি পুরান ঢাকার নবাবপুর এলাকা থেকে নিম্নমানের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য সংগ্রহ করে বরিশালে তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি করছে—এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ক্রেতা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, আরিফ ইলেকট্রনিক্স থেকে বিভিন্ন ধরনের লাইট, ফ্যান, সুইচসহ ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনার পর অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলোর কিছু অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পণ্য কেনার সময় ওয়ারেন্টি বা পরিবর্তনের আশ্বাস দেওয়া হলেও পরবর্তীতে নষ্ট পণ্য পরিবর্তন কিংবা বিক্রয়োত্তর সেবা নিতে গেলে নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
দুই মাসেই নষ্ট সুইচ-লাইট, অভিযোগ ক্রেতার
বরিশাল নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের আমবাগান এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, তাঁর পাঁচতলা ভবনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী আরিফ ইলেকট্রনিক্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবুজের কাছ থেকে ক্রয় করেন তিনি।
সাইফুল ইসলামের অভিযোগ, পণ্যগুলো কেনার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই সুইচ, লাইটসহ বিভিন্ন সামগ্রী নষ্ট হতে শুরু করে। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে নষ্ট পণ্য পরিবর্তন করে দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও তিনি কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, আমার পাঁচতলা ভবনের জন্য প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক সামগ্রী তাদের কাছ থেকে কিনেছি। কিন্তু দুই মাস না যেতেই সুইচ, লাইটসহ বিভিন্ন পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি একাধিকবার জানিয়েছি এবং মালামাল পরিবর্তন করে দেওয়ার অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করেছে।”
দুই লাখ টাকার পণ্য কিনেও প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ
নগরীর ভাটিখানা এলাকার এক বাসিন্দার অভিযোগ, পরিচিত এক ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে আরিফ ইলেকট্রনিক্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবুজের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে ভবনের প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক সামগ্রী হিসেবে প্রায় দুই লাখ টাকার পণ্য ক্রয় করেন তিনি।
তাঁর দাবি, পণ্যগুলো ব্যবহারের কিছুদিনের মধ্যেই বিভিন্ন সামগ্রীতে ত্রুটি দেখা দেয় এবং বেশ কিছু পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবুজের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ওই বাসিন্দা বলেন, “বিশ্বাস করে ভবনের জন্য প্রায় দুই লাখ টাকার ইলেকট্রনিক মালামাল কিনেছিলাম। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই বিভিন্ন পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি সবুজকে বারবার জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান পাইনি।
‘ওয়ারেন্টি’ দেওয়ার পরও নষ্ট পণ্য নিয়ে ভোগান্তি
এদিকে নগরীর ব্যাপ্টিস্ট মিশন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা সোহান জানান, তাঁর বাসায় কাজ করানোর পর প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনার জন্য এলাকার পরিচিত একজন বড় ভাইয়ের মাধ্যমে তাঁর এক আত্মীয়ের কাছ থেকে পণ্য ক্রয় করেন।
সোহানের অভিযোগ, কেনার সময় পণ্যগুলোর ওয়ারেন্টি রয়েছে বলে তাকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু ব্যবহারের কিছুদিনের মধ্যেই লাইট, ফ্যান ও সুইচসহ বিভিন্ন সামগ্রীতে সমস্যা দেখা দেয়। নষ্ট পণ্য পরিবর্তন কিংবা ওয়ারেন্টি সুবিধা পাওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর সমাধান মেলেনি বলে দাবি তাঁর।
সোহান বলেন, “বিশ্বাস করে পরিচিতজনের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক সামগ্রী কিনেছিলাম। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই লাইট, ফ্যান ও সুইচ নষ্ট হয়ে যায়। কেনার সময় ওয়ারেন্টির কথা বলা হয়েছিল। এখন নষ্ট পণ্য নিয়ে যোগাযোগ করলে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।
এ বিষয় আরিফ ইলেকট্রনিক প্রোপাইটার সবুজ মোবাইল যোগাযোগ করলে তিনি জানান পরে কথা বলবে এখন বাইক চালাচ্ছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা চাওয়ার দাবি
একাধিক ক্রেতার অভিযোগ, ইলেকট্রনিক পণ্যের মান, ওয়ারেন্টি এবং বিক্রয়োত্তর সেবা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে কোনো প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের বা ত্রুটিপূর্ণ পণ্য বিক্রি করছে কি না, পণ্যের গায়ে উল্লেখ করা মান ও বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে বাস্তব পণ্যের মিল রয়েছে কি না এবং ক্রেতাদের দেওয়া ওয়ারেন্টি যথাযথভাবে কার্যকর করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সোহান বলেন, “ভোক্তাদের স্বার্থে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির পণ্যের মান ও বিক্রয় কার্যক্রম যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
আরও তথ্য পাওয়ার দাবি তালাশ বিডির
এদিকে আরিফ ইলেকট্রনিক্সের ব্যবসা, পণ্য সংগ্রহের উৎস, বিক্রয় কার্যক্রম এবং ক্রেতাদের অভিযোগের বিষয়ে তালাশ বিডির অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। অনুসন্ধানে আরও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের কাজ চলছে।
অভিযোগের বিষয়ে আরিফ ইলেকট্রনিক্সের মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সবুজের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো সত্য কি না, পণ্যের মান নিয়ে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না এবং ভোক্তারা প্রকৃতপক্ষে ওয়ারেন্টি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন কি না—এসব বিষয়ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে সেটিও যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
তালাশ বিডির অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ও প্রাসঙ্গিক নথিপত্র যাচাই শেষে এ বিষয়ে আরও প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন