প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
‘স্বামী ভ্যান চালায়, ছলডা কৃষি কাজ করে। কত কষ্ট করে ঘর-সংসার করতিছি। ছেলে-মেয়ে মানুষ করিছি। রাতে শুয়ে রইছি। উঠে দেহি গোয়ালঘরে আগুন। তাড়াতাড়ি এসে গরুর দড়ি কাইটে বের করিছি। একটা মরে গেছে, তিনটে গরু আর একটি ছাগলের অবস্থাও খারাপ।’
এই কথাগুলো বলছিলেন নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের বাহির গ্রামের বাসিন্দা পারভিন বেগম। রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটের কারণে আগুনে পুড়ে যায় তাদের গোয়ালঘর। গোয়ালঘরে থাকা চারটি গরুর মধ্যে একটি আগুনের কারণে মারা যায়। বাকিগুলো মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
পারভীন বেগম ও তার স্বামী ওবায়দুল গাজী দম্পতির জন্য চারটি গরুই ছিল একমাত্র মূলধন, যা তারা অনেক কষ্টে লালনপালন করেছেন। গরু বিক্রি করে ঋণ শোধ করার স্বপ্ন দেখছিলেন তারা। কিন্তু এখন এক রাতেই তাদের পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে।
পারভীন বলেন, ‘একটু সোজা হয়ে যহন দাঁড়াইছি, তহন মাথায় বাড়ি (আঘাত), আগুন আমার কষ্টের ফসল এমন করে কাড়ি নিলু। আগুনে আমরা নিজেরাও পুড়ে অসুস্থ হয়ে পড়িছি। মরে যাইনি, তা-ই ধন্য।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে পারভীন আরও বলেন, ‘মারা যাওয়া গরুটা, চার মাস গাভিন ছিল। আশি হাজার টাকা দাম হইল। সমিতি থেকে লোন নিয়ে গরুগুলো কিনিলাম। এখন সব শেষ হয়ে গেল। ভাবছিলাম সমিতির টাকা শোধ হলেই গরু বেচে ঘর করব। আমার সব শেষ হয়ে গেল।’
পরিবারটির দাবি, আগুনে গরু, গোয়ালঘরসহ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় তিন লাখ টাকা।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে দুটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নিয়ে গোয়ালঘর নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর গরুগুলো কেনা হয়। তাদের আশা ছিল গরুগুলো বড় হলে তা বিক্রি করে ঋণের টাকা শোধ করবেন এবং ভাঙা ঘরটিও মেরামত করবেন। কিন্তু রবিবার রাতেই গোয়ালঘরে আগুন লাগার পর মুহূর্তেই সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়।
পারভীনের স্বামী ওবায়দুল গাজী বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ, ভ্যান চালাই। একটা গরুর দাম ৮০ হাজার টাকা। সেই গরুটা মারা গেছে। অন্য গরুগুলো বাঁচবে কী মরবে, জানি না। একটা ছাগল ছিল তাও আগুনে পুড়ে অসুস্থ। আমি নিঃস্ব হয়ে গিছি। সরকারের কাছে আমার আবেদন আমাকে যেন আর্থিক সহায়তা করা হয়।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন