প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নাইজেরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় তারাবা রাজ্যের একটি গ্রামে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন, এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। তবে হামলার শিকার ব্যক্তিদের দাবি, নিহতের সংখ্যা অন্তত ২০। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, এ হামলায় নিহতের সংখ্যা ৪০। শুক্রবার জুমার নামাজের পর মোটরসাইকেলে করে আসা বন্দুকধারীরা গ্রামটিতে হামলা চালায় এবং এ সময় তারা দোকান থেকে খাবারসহ অন্যান্য জিনিসপত্র লুট করে।
শনিবার নাইজেরিয়ার পুলিশ জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তারাবা রাজ্যের বিনারি গ্রাম থেকে ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আরো লাশ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। বার্তা সংস্থা এএফপিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হামলার পর তারা ২০টির বেশি লাশ দেখতে পান, যদিও তখনো কিছু মানুষ নিখোঁজ ছিলেন।
বিনারি গ্রামের বাসিন্দা সাইদু নুহু এএফপিকে বলেন, “হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর আমরা ২০টির বেশি লাশ গুনেছি। তখনো কিছু মানুষ নিখোঁজ ছিলেন।” গ্রামের আরেক বাসিন্দা ইসিয়াকু মুসা নিহতের সংখ্যা অন্তত ২০ বলে জানিয়েছেন। স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতা মালাম আবুবকর সাইফুল্লাহ এএফপিকে বলেন, প্রায় ৫০টি মোটরসাইকেলে করে হামলাকারীরা গ্রামে আসে, প্রতিটি মোটরসাইকেলে দুজন করে ছিল। এরপর তারা গ্রামে লুটপাট চালায়।
সাইফুল্লাহ বলেন, হামলাকারীরা দোকান থেকে নগদ টাকা, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে যায়। হামলার সময় প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে যাওয়া লোকজনের ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেলও তারা নিয়ে যায়। শনিবার এক বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, পুলিশ প্রথমে ১০ জন নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছিল, তবে শনিবার পরে আরো লাশ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। সংগঠনটির হিসাবে, হামলায় নিহতের সংখ্যা ৪০।
নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে অ্যামনেস্টি বলেছে, দেশটির উত্তরের কয়েকটি অঞ্চলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে বারবার বন্দুকধারীদের হামলার মুখে ফেলে রাখা হচ্ছে। হামলাকারীরা দায়মুক্তি নিয়ে একের পর এক নৃশংসতা চালিয়ে যাচ্ছে।
নাইজেরিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে সশস্ত্র ডাকাত গোষ্ঠীর তৎপরতা দিন দিন বাড়ছে। দুর্গম গ্রামীণ এলাকায় এসব গোষ্ঠীর সঙ্গে জনবল ও সরঞ্জামের সংকটে থাকা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সংঘাত চলছে। দেশটির মধ্য-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য তারাবাতেও এ ধরনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর হুমকি রয়েছে। এসব গোষ্ঠীর তৎপরতা কোনো নির্দিষ্ট মতাদর্শভিত্তিক নয়।
নাইজেরিয়ার যেসব গ্রামীণ এলাকায় সরকারের উপস্থিতি কম, সেখানে এসব সশস্ত্র গোষ্ঠী গ্রামে হামলা চালায়, মুক্তিপণের জন্য মানুষকে অপহরণ করে এবং কৃষক ও খনিশ্রমিকদের কাছ থেকে ‘কর’ আদায় করে। এদিকে, ২০০৯ সালে বোকো হারামের বিদ্রোহ শুরুর পর থেকে নাইজেরিয়ায় সশস্ত্র বিদ্রোহ দমনের লড়াই চলছে।
এর মধ্যেই শনিবার দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বর্নো রাজ্যে বিমান হামলা চালিয়ে ১৫ জন ‘সন্ত্রাসীকে’ হত্যা করা হয়েছে। তবে ওই অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
এএম
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন