প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হাটের এক কোণে পুরনো কাপড়ের স্তূপ দেখা যাচ্ছে। সেখানে ঝলমলে আলোকসজ্জা কিংবা নতুন পোশাকের বাহারি প্রদর্শনী নেই। তবুও ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্যণীয়। কেউ মাঠে কাজ করার জন্য একটি শার্ট খুঁজছেন, আবার কেউ গ্যারেজে ব্যবহারের জন্য একটি প্যান্ট খুঁজছেন।
কাপড়গুলো নতুন নয়, বরং ব্যবহৃত। তবে শ্রমজীবী মানুষের কাছে এগুলোই কাজের সময় ব্যবহারের জন্য উপযোগী পোশাক হিসেবে বিবেচিত।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পৌর হাটে প্রতি বুধবার ও রবিবার এই দৃশ্য চোখে পড়ে। পুরনো কাপড়ের দোকানগুলো ঘিরে কৃষক, শ্রমিক ও ওয়ার্কশপ কর্মীদের ভিড় জমে। স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে সাশ্রয়ী দামে প্রয়োজনীয় কাজের পোশাক কেনার সুযোগ থাকায় এসব কাপড়ের চাহিদাও যথেষ্ট।
সম্প্রতি বীরগঞ্জ পৌরহাটে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি পুরনো শার্ট, টি-শার্ট, ফুলপ্যান্টসহ বিভিন্ন পোশাক সাজানো হয়েছে। ক্রেতারা ধৈর্য সহকারে কাপড় ঘেঁটে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী পোশাক বেছে নিচ্ছেন। কেউ দামদর করছেন, আবার কেউ পছন্দের কাপড় পেয়ে হাসিমুখে ফিরে যাচ্ছেন।
হাটে কাপড় কিনতে আসা কৃষিশ্রমিক হরেনের হাতে একটি পুরনো শার্ট রয়েছে। তিনি মাত্র ৩০ টাকা দিয়ে এটি কিনেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা মাঠে কাজ করি। ধানকাটা, ঘাস পরিষ্কার- জমিতে কাজ করতে গিয়ে কাপড় তাড়াতাড়ি নোংরা হয়ে যায়। নতুন কাপড় পরে কাজ করলে কয়েক দিনের মধ্যেই আর আগের মতো থাকে না। তাই কাজের জন্য পুরনো কাপড় কিনি।’
একই কথা বলেন স্থানীয় একটি গ্যারেজের কর্মী দীপু। তিনি জানান, ‘ভেপু গ্যারেজে সারাদিন তেল, গ্রিজ আর কালির মধ্যে কাজ করতে হয়। পোশাকে কালি ধরে নোংরা হয়, নতুন কাপড় পরে কাজ করা যায় না। তাই কাজের জন্য কম দামের পুরনো কাপড়ে সুবিধা হয়।’
পুরনো কাপড় বিক্রেতা মো. রবিউল ইসলাম জানান, তিনি সৈয়দপুর থেকে মানভেদে প্রতিপিস শার্ট ১৫ থেকে ২৫ টাকা এবং প্যান্ট প্রতি পিস ২০ থেকে ৩০ টাকায় সংগ্রহ করেন। এরপর বীরগঞ্জসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটে তিনি তা বিক্রি করেন। তার দোকানে শার্ট ৩০ থেকে ৫০ টাকা এবং ফুলপ্যান্ট ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়।
রবিউল বলেন, আমার বেশিরভাগ ক্রেতাই শ্রমজীবী মানুষ। অনেকেই শুধুমাত্র কাজের জন্য আলাদা কাপড় কিনে থাকেন। নতুন কাপড় নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে না বলে পুরনো কাপড়ের প্রতি তাদের আগ্রহ বেশি। এছাড়া একেবারে নিম্ন আয়ের মানুষও- যাদের নতুন কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই- এখান থেকে কম দামে কাপড় কিনে থাকেন।
স্থানীয়দের মতে, বীরগঞ্জের বিভিন্ন হাটে বহু বছর ধরে পুরনো নিলামি কাপড়ের ব্যবসা চলে আসছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যবসা শুধু টিকে থাকেনি, বরং শ্রমজীবী মানুষের চাহিদার কারণে আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ ছাড়া নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ কম দামে পুরনো কাপড় কিনে পোশাকের প্রয়োজন মেটাচ্ছেন। কেউ কর্মক্ষেত্রে আবার কেউ দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য এসব পোশাক বেছে নিচ্ছেন। ফলে পুরনো কাপড়ের বাজার সীমিত আয়ের মানুষের জন্য একটি ব্যবহারিক ও সাশ্রয়ী বিকল্প হয়ে উঠেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন