প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম সোমবার জাতিসংঘের প্রধান আন্তোনিও গুতেরেসকে জানিয়েছেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে জাতিসংঘ অনুমোদিত একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী প্রয়োজন, যখন বর্তমান জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের মেয়াদ শেষ হবে।
বৈরুত থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানাচ্ছে, লেবাননে বর্তমানে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী (ইউনিফিল) ৪৬টি দেশের প্রায় ৭ হাজার ৫০০ শান্তিরক্ষী নিয়ে গঠিত।
১৯৭৮ সাল থেকে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে একটি বাফার বা মধ্যবর্তী শক্তি হিসেবে কাজ করে আসছে এই বাহিনী। কিন্তু মার্কিন চাপের কারণে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গত বছর এই বাহিনীর মেয়াদ চলতি বছরের শেষে বন্ধ করার পক্ষে ভোট দিয়েছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠকের পর, লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সালাম ইউনিফিলের পরবর্তী পর্যায়ে দেশের দক্ষিণে জাতিসংঘের ছত্রছায়ায় একটি আন্তর্জাতিক উপস্থিতি বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।
নওয়াফ সালাম উল্লেখ করেছেন, এটি এমনভাবে হওয়া উচিত যা পর্যবেক্ষণ, প্রতিবেদন তৈরি ও লিয়াজোঁর কাজগুলো অব্যাহত রাখতে সক্ষম হবে, স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে এবং লেবানন রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব সম্প্রসারণের প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে।
ইউনিফিলের আসন্ন বিদায় এমন একটি সময়ে ঘটছে, যখন ইসরাইল সীমান্ত বরাবর দক্ষিণ লেবাননের অভ্যন্তরে প্রায় ১০ কিলোমিটার (ছয় মাইল) গভীর একটি স্ব-ঘোষিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ তাদের সেনা মোতায়েন রেখেছে।
হিজবুল্লাহ তাদের পৃষ্ঠপোষক ইরানের সমর্থনে ইসরাইলে হামলা চালিয়ে গত মার্চ মাসে লেবাননকে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলে। এরপর ইসরাইল সেখানে ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল আক্রমণ শুরু করে।
গত সপ্তাহে, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এএফপি-কে বলেছিলেন, শান্তিরক্ষী বাহিনী চলে যাওয়ার পর নিরাপত্তা শূন্যতা রোধ করতে লেবানন একটি নতুন ইউরোপীয় বা অন্য কোনো বাহিনী চায়। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ‘সবচেয়ে ভালো ও সর্বোত্তম বিকল্প হলো ইউনিফিলের মেয়াদ বাড়ানো।’
ইউনিফিলের স্থলাভিষিক্ত করার জন্য একটি নতুন বাহিনী গঠনের বিষয়টি গত সপ্তাহে প্যারিসে জোসেফ আউন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর মধ্যে বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ছিল।
এদিকে, ফ্রান্স ও ইতালি জানিয়েছে যে তারা ইউনিফিলের বিদায়ের পর একটি বহুজাতিক জোট গঠন করতে চায়।
জুন মাসের একটি প্রতিবেদনে গুতেরেসও উল্লেখ করেছেন, ইউনিফিলের মিশন শেষ হওয়ার পরেও সেখানে শান্তিরক্ষীদের প্রয়োজন হবে।
সালাম গুতেরেসকে আরও জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর লেবাননে এখনও প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে।
তিনি এই মানবিক সংকটে সহায়তার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন