প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ভান্ডারীকান্দি ইউনিয়নে চোকদার বংশের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষটি পূর্ববিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়। উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সংঘর্ষের পর, একটি পক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ আগস্ট ভান্ডারীকান্দি ইউনিয়নে চোকদার বংশের জোনায়েদ মেম্বার ও সৈকত চোকদারের পক্ষের মধ্যে পূর্ব বিরোধের কারণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালান। এতে অন্তত ৯ জন আহত হন। পরে উভয় পক্ষই শিবচর থানায় পৃথক মামলা দায়ের করে।
এরপর, ২৫ আগস্ট সকালে স্থানীয় ক্রোকচর বাজার এলাকায় জোনায়েদ মেম্বার হামলার শিকার হয়ে আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরদিন, ২৬ আগস্ট সৈকত চোকদারের জমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠে। তবে গাছ কাটার ঘটনায় কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, চোকদার বংশের দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে প্রায়ই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। সম্প্রতি এই বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
গাছ কাটার অভিযোগের বিষয়ে সৈকত চোকদারের পরিবারের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের জমিতে থাকা গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন। অন্যদিকে, জোনায়েদ মেম্বারের পরিবারের পক্ষ থেকে গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
জোনায়েদ মেম্বারের ছেলে সাইমুন চোকদার বলেন, “আমার বাবাকে তারা আহত করেছে। তবে আমরা কোনো কলাগাছ বা অন্য কোনো গাছ কাটার বিষয়ে কিছু জানি না।”
সৈকত চোকদারের মা সিরিন সুলতানা বলেন, “জায়গাজমি নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে আমার ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে। জোনায়েদ মেম্বার আহত হওয়ার বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমার ছেলেরা শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা প্রতিষ্ঠিত হওয়াটা অনেকে সহ্য করতে পারেনি। এ কারণেই পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে ফাঁসানো হচ্ছে।”
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, “জুনায়েদ মেম্বারকে যারা আহত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে গাছ কাটার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমরা কোনো তথ্য পাইনি।”
এদিকে সংঘর্ষ ও পরবর্তী ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত বিরোধের সমাধান না হলে যেকোনো সময় আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। দীর্ঘদিনের জায়গাজমি ও বংশীয় বিরোধের অবসান কবে হবে—এমন প্রশ্নও তুলেছেন স্থানীয়রা।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি বিরোধের স্থায়ী সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন