প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার নীলক্ষেত এলাকায় আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় অভিনেতা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই কারণে, তার কারামুক্তি আটকে যাওয়ার জন্য এখনই মুক্তি পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
রবিবার (১৪ জুন), ডিবি পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম অধ্যাপক আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
আবুল বারকাতকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রাপ্তির জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদন জমা দিয়েছেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মাজহারুল ইসলাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত বছরের ১০ জুলাই রাতে ধানমণ্ডির ৩ নম্বর সড়কের তার বাসা থেকে অধ্যাপক আবুল বারকাত গ্রেপ্তার হন, যখন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের নাম ব্যবহার করে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগে পরদিন তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
গত ৭ জুন, দুদকের মামলায় আপিল বিভাগ থেকে তিনি জামিন লাভ করেন। তার জামিন আবেদন আদালতে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে মঞ্জুর করা হয়। তবে জামিন লাভের পরেও তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাননি।
সে দিনই, আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন রমনা জোনাল টিমের ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর আমজাদ হোসেন তালুকদার। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন নির্ধারণ করে রবিবার।
এদিন শুনানির সময় তাকে আদালতে উপস্থিত করা হয়। আবুল বারকাতের আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার না দেখানোর দাবিতে আবেদন করেন। শুনানির পর আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন।
আবুল বারকাতের অপর আইনজীবী বাবুল মিয়া বলেন, 'কারামুক্তি পাওয়ার জন্য আবুল বারকাতকে এই মামলায় জামিন পেতে হবে। আমরা তার জামিনের জন্য আবেদন করেছি। আগামীকাল সোমবার জামিন সংক্রান্ত শুনানি হবে।'
গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঠেকাতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আলহাজ আব্দুর রউফ, ড. আবুল বারকাতসহ অন্যান্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তারা অর্থ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক উপাদান উন্নয়ন দিয়ে ছাত্র-জনতা এবং আন্দোলনকারীদের আন্দোলন দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
তারা ঘোষণা করেন, 'আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র সরাসরি গুলি চালিয়ে ও মারধর করে হত্যা করতে হবে।'
এই নির্দেশনার প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সহযোগিতায় আব্দুর রউফ, আবুল বারকাত ও অন্যান্য আসামিরা আন্দোলন দমনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এর ফলশ্রুতিতে আব্দুর রউফ ও আবুল বারকাত কর্তৃক নির্দেশিত ও সহায়তাপ্রাপ্তা কৃত্যাবলীর মাধ্যমে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে নিউ মার্কেট থানাধীন নীলক্ষেত মোড়ের পশ্চিম পাশে বিশাল ত্রাস সৃষ্টি করে। এর ফলে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা নিহত হন এবং অনেকে আহত হয়।
আব্দুল ওয়াদুদ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান থেকে ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান।
ড. আবুল বারকাত ঘটনার দিনে অর্থাৎ ১৯ জুলাই সকালে ঢাকা ইউনিভার্সিটি এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জন্য আর্থিক সহযোগিতা ও নির্দেশনা প্রদান করেন বলেও জানা যায়।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে নিউ মার্কেটের নীলক্ষেত এলাকায় আন্দোলনের সময় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদকে গুলিতে হত্যা করা হয়। এরপর আব্দুল ওয়াদুদ এর শ্যালক আব্দুর রব নিউ মার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন