প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দেশটির সামরিক জান্তা বাহিনী এবং আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষ এবং সীমান্তের ওপারে ঘটিত বিমান হামলার কারণে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নিরাপত্তা জোরদার করেছে। নাফ নদে নৌ টহল বাড়ানো হয়েছে, সেই সঙ্গে সীমান্তজুড়ে স্থল টহল এবং ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে টেকনাফ ২ বিজিবির লেফটেন্যান্ট ফুয়াদ রহমানের নেতৃত্বে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া, বরইতলী ও জাদিমোড়া সীমান্ত এলাকার বিজিবি সদস্যরা টহল পরিচালনা করেন। একই সঙ্গে নাফ নদীতে নৌ টহল এবং ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক সীমান্ত নজরদারি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
টেকনাফ থেকে শাহপরীর দ্বীপ ও হ্নীলা পর্যন্ত পুরো সীমান্ত এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে, যাতে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বা চোরাচালানের ঘটনা না ঘটে। সীমান্তবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার পর থেকে মায়ানমারের মংডু এবং আশপাশের এলাকায় কিছু নির্দিষ্ট সময়ে বিমান হামলার বিকট বিস্ফোরণের শব্দ টেকনাফ সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছায়। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে আবারো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা সীমান্তবর্তী এলাকায় সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। অনেকেই প্রথমদিকে ভূমিকম্প হয়েছে মনে করে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, সীমান্তের ওপারে বিস্ফোরণের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ সৃষ্টি করলেও বাংলাদেশের সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দ আলম জানান, বুধবার রাতে কয়েকটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে আবার একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে সীমান্তের ওপারে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়।
এসব ঘটনার ফলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তার শঙ্কায় নাফ নদীতে অনেক জেলেও মাছ ধরতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।
এদিকে একটি রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা আজম উল্লাহ দাবি করেছেন, বুথিডং এলাকার চারলাইন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে জান্তা বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে বহু রোহিঙ্গা গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও জানান, চলমান হামলার কারণে অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন