প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হাদি হত্যা মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের কেন বাদী হয়েছেন, এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাদি হত্যা মামলার বাদী নিয়ে ‘নোংরামি’ ও ‘মিথ্যাচার’ চলছে।
শুক্রবার (৫ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি দীর্ঘ পোস্টে সেসময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন মাসুমা। মামলার বাদীর সাক্ষর নেওয়া নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
মাসুমা হাদি লিখেছেন, "আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদী নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে।"
তিনি আরও জানিয়েছেন, "সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি। শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের কাছে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদী হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।"
ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার দিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি লেখেন, "আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনা মাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিই, এবং সরাসরি এভার কেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে আমি এক মিনিটের জন্যও হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যেতে পারিনি।"
তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রেখে বলেন, "এখন আমার প্রশ্ন প্রশাসনের লোক এভার কেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিল কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি।"
মাসুমা বলেন, "মামলার বাদীর ব্যাপারে কার কাছে বলছে, কে বলছে যে, আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদী হতে চাই না। এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা কোন প্রশ্ন ছিল না।"
তিনি জানান, "কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘ দিন চলাফেরা করছে, এমন কোন লোক নেই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িয়ে। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ড চিন্তা করে না।"
এরপর তিনি চিকিৎসার বিষয় নিয়েও বলেন, "আমার ভাই যখন এভার কেয়ারে ছিল, তখন অনেকেই আমার ভাইয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছিলেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ সম্মতি জানাইনি।"
মাসুমা শেষ পর্যন্ত জানান, "আমি এগুলো কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারোর বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়। সম্মান করতে না পারলে, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন