প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উপসহকারি প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেও ৬ বছরের অধিক সময় ধরে দপ্তর প্রধানের চেয়ারে বসে আছেন মাকসুদ এম.এ হান্নান, (পটুয়াখালী -দুমকি) মো. মাকসুদুর রহমান। পটুয়াখালীর বাউফলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে তিনি কর্মরত রয়েছেন। সহকারী প্রকৌশলীর পদ শূন্য থাকায় ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করছেন। তবে, তার দায়িত্ব পালন করার সময়কাল দুই এক বছর নয়, বরং প্রায় ৬ বছর ধরে তিনি কর্তার চেয়ারে বসে আছেন।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী তিন বছরের বেশি সময় একই কর্মস্থলে থাকতে পারেন না। কিন্তু জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে তাকে বারবার অন্যত্র বদলি করার নির্দেশ দেওয়া হলেও অদৃশ্য ক্ষমতার প্রভাবে তিনি একই কর্মস্থলে অবস্থান করছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও একাধিক সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের শুরুতে বাউফলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে যোগদান করেন মাকসুদুর রহমান। সহকারী প্রকৌশলীর পদ শূন্য থাকায় ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পান। উপসহকারী হয়ে তিনি কার্যালয়ের প্রধান বনে গিয়ে হয়ে উঠেছেন বেপরোয়া।
নিজের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে তিনি তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের স্থানীয় সংসদ সদস্য আ.স.ম ফিরোজ, উপজেলা চেয়ারম্যান মোসরেফ হোসেন খান সহ শীর্ষ নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন। ফলে, মাকসুদ একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ওঠেন। তার একক নিয়ন্ত্রণে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তর অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তিন বছরের বেশি একই কর্মস্থলে থাকতে না পারলেও তিনি প্রায় ৬ বছর ধরে একই কর্মস্থলে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের আমলে তাকে একাধিক বার বদলি আদেশ দেওয়া হলেও সাবেক সংসদ সদস্য আ.স.ম ফিরোজের মাধ্যমে বদলি আদেশ বাতিল করা হয়।
২৪,র ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতন হলে মাকসুদ নতুন করে ইউটান নিয়ে স্থানীয় জামায়াত ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে নেতাদের সাথে সম্পর্ক সুদৃঢ় করেন। এর ফলে, তিনি আবারও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন সময় অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমের শিরোনাম হলেও, অদৃশ্য ক্ষমতার অধিকারী এই উপসহকারী প্রকৌশলী বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
মাকসুদের যত অনিয়ম
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার কারণে অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করেছেন। নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকেন না মাকসুদ। তার বিরুদ্ধে গভীর নলকূপ স্থাপন ও পানি সরবরাহ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সারাদেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার কালাইয়া ও কালিশুরী বন্দরে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। নির্মাণ কাজে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার, শিডিউল অনুযায়ী কাজ না করা, বৃষ্টির মধ্যে পানির ট্যাঙ্কির ঢালাই এবং রাতের আঁধারে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। কাজের তথ্য জানতে একাধিক বার কার্যালয়ে গিয়েও সাংবাদিকদের তথ্য দেননি তিনি। এমনকি অভিযোগের বিষয়ে জানানো সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানাচ্ছে, দুটি কাজের তদারকের দায়িত্বে রয়েছেন উপ-সহকারি প্রকৌশলী মাকসুদ। সাব ঠিকাদার হিসেবে একই ব্যক্তি কাজ দুটি করছেন। তাকে (মাকসুদ) ম্যানেজ করেই নির্মাণ কাজে অনিয়ম করছেন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
এদিকে, প্রতিবছর স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুকূলে বিশেষ বরাদ্দ, এডিপি ও রাজস্ব প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিপর্যায়ে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। যার অধিকাংশ নলকূপের প্ল্যাটফর্ম (চাতাল) নির্মাণ না করে বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে।
দাশপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল হক বলেন, ‘২০২৪ সালে সুপেয় পানির জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন করা হলেও এখন পর্যন্ত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দেওয়া হয়নি। একাধিক বার বলার পরেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এমন অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কার্যালয়ের সাবেক এক কর্মচারী জানান, গভীর নলকূপ স্থাপনের পর অধিকাংশ টিউবওয়েলে পাকা প্ল্যাটফর্ম (চাতাল) নির্মাণ না করে বরাদ্দের টাকা ঠিকাদারের সাথে সমঝোতা করে আত্মসাৎ করেন মাকসুদ। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপসহকারী প্রকৌশলী মাকসুদুর রহমানের দপ্তরে গেলে তিনি বলেন, ‘নিউজ করার দরকার নেই, তথ্যও নেওয়ার দরকার নেই। আমি এমনিতেই চলে যাব।’ এরপর আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি তিনি এবং ব্যস্ততার অজুহাতে কথা বলা বন্ধ করে দেন।
বিষয়টি পটুয়াখালী জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ৭ মাস আগে তাকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। পরে তার আবেদনের প্রেক্ষিতে তা স্থগিত করা হয়। যেহেতু তিনি ৫ বছরেরও বেশি সময় একই কর্মস্থলে রয়েছেন, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, গভীর নলকূপের বিষয়ে বাউফল নিয়ে প্রায় অভিযোগ আসে। বর্তমানে অভিযোগ অনেকটা কমেছে। যে কারণে ফাইন বিল চূড়ান্ত করার আগে আমি কিছু টিউবওয়েল চেক করিয়ে নেই। আবার যারা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, তাদের টিউবওয়েলের প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে যদি কোনো অভিযোগ আসে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পানি সরবরাহ প্রকল্পে অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, বৃষ্টির মধ্যে নির্মাণ কাজ করার যে ভিডিও গণমাধ্যমে এসেছে তা আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। যদি কাজে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তবে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন