প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
‘সারের ডিলারশিপ না দেন, বিষের ডিলারশিপ দেন-ত্যাগী কর্মীরা মরে যাক’ এই মন্তব্যটি করেছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রায়হান ফেরদৌস সজীব।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই কথা বলেন।
বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের সার ডিলারশিপ না পাওয়ার কারণে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে রায়হান এই মন্তব্য করেছেন। তার মন্তব্যটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
রায়হান ফেরদৌস ‘সজীব রায়হান ট্রেডার্সের’ মালিক। তিনি দাবি করেছেন, বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের সার ডিলারশিপের জন্য সুপারিশে তার নাম দ্বিতীয় স্থানে ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেসার্স বিদ্যানন্দ ট্রেডার্সের মালিক মোস্তফা জামাল ডিলারশিপটি পান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ফেসবুকে ওই মন্তব্যটি করেন।
সজীবের অভিযোগ, মোস্তফা জামাল এবং তার পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার পরও তিনি ডিলারশিপ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
তবে মেসার্স বিদ্যানন্দ ট্রেডার্সের মালিক মোস্তফা জামাল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এগুলো সব মিথ্যা। আমি ও আমার পরিবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না।’
ডিলারশিপ পরিচালনা নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা জামাল বলেন, হারুন উর রশীদ তার জন্য কিছু কথা বলেছিল। তার নামে ডিলারশিপ রয়েছে এবং তিনি তা পরিচালনা করবেন।
রায়হান ফেরদৌস সজীব দাবি করেছেন, তিনি প্রায় ১৭ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। ২০১১ সালে বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ২০১৩ সালে রাজারহাট উপজেলা ছাত্রদলের কোষাধ্যক্ষ এবং ২০২১ সাল থেকে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২২ সালে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের জিয়া মঞ্চের সহসভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন বলে জানান তিনি।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন সময় হামলা-মামলার শিকার হওয়ার দাবি করেছেন সজীব। তার ভাষ্য, ২০১৩ সালে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় করা একটি মামলায় তিনি আসামি হন। ২০১৭ সালে রাজারহাট সোনালী ব্যাংক চত্বরের সামনে যাওয়ার সময়ও হামলার শিকার হন বলে দাবি করেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে কোমরের ব্যথায় ভুগছেন সজীব। তিনি জানান, বাংলাদেশে রংপুর ও ঢাকায় চিকিৎসা নিয়েছেন। পরে ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসার জন্য ২০২০ সালে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে চিকিৎসা নিতে পারেননি। বর্তমানে আবারও উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার দাবি, অসুস্থতার কারণে দৌঁড়াতে পারেন না; তবুও বিএনপির কোনো দলীয় কর্মসূচি বাদ দেননি।
সজীব আরও বলেন, আমি একজন জুলাই যোদ্ধা। ১৭ বছর ধরে বিএনপির জন্য এত ত্যাগ স্বীকার করলাম। বিএনপি সরকার ক্ষমতায়, কিন্তু আমি বিএনপি করেও ডিলারশিপ পেলাম না। অথচ আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা ডিলারশিপ পায় কিভাবে?
এদিকে স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ডিলারশিপ মোস্তফা জামালের নামে থাকলেও ব্যবসাটি নিয়ন্ত্রণ করছেন বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন উর রশীদ। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হারুন উর রশীদ। তিনি বলেন, সবাই কেন জানি এটাই ভাবছেন।
তার দাবি, ডিলারশিপের সব কাগজপত্র মোস্তফা জামালের নামে এবং ডিলারশিপও তিনিই পেয়েছেন।
এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় বলেন, ‘সরেজমিন তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছিল। সার ডিলারশিপ নিয়োগ কমিটিতে আমিও আছি, আরও অনেকে আছেন। সবার সুপারিশক্রমে যাকে ভালো মনে হয়েছে, তাকেই দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন