প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ত্রিপুরা পল্লী, একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকা। বিদ্যুতের আলো এখানেও পৌঁছায়নি। শিশুদের স্কুলে যেতে দুই ঘণ্টা হাঁটতে হয়। পানির জন্যও তাদের অনেক পথ পাড়ি দিতে হয়। সপ্তাহের একটি দিন, বৃহস্পতিবার, ফসল বিক্রি করেই তাদের জীবন চলে। চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়ি ইউনিয়নের ত্রিপুরা পল্লীর জীবনযুদ্ধের চিত্র এটি।
ত্রিপুরা পল্লীতে বিদ্যুতের আলো এখনও আসেনি। সন্ধ্যা হলে পাহাড়ের কোলঘেঁষা ঘরগুলো নিস্তব্ধ হয়ে যায়; সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে যেন জীবনও ঢেকে যায় এক গভীর অন্ধকারে। যেসব পরিবারের সামর্থ্য রয়েছে, তারা সোলার প্যানেল বসিয়ে বৈদ্যুতিক বাতির ক্ষীণ আলো জ্বালিয়েছে—এই আলো যেন অন্ধকারের বিরুদ্ধে একটি ক্ষুদ্র প্রতিবাদ।
প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের আলোর সন্ধানে হাঁটতে হয় প্রায় দুই ঘণ্টা। পাহাড়ি পথ, ভেজা মাটি, কখনো কাঁটাঝোপ—এসব পেরিয়ে তারা স্কুলে পৌঁছায়।
রাতের পড়াশোনা তাদের কাছে যেন একটি স্বপ্ন; সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের ঘুমিয়ে পড়তে হয়। কারণ অন্ধকারের সঙ্গে লড়াই করার মতো আলো তাদের নেই।
নিত্য ব্যবহারের পানির জন্য তাদের যেতে হয় অনেক দূরে। পাহাড়ি ছড়াই তাদের একমাত্র ভরসা। শিশুদের কাঁধে, মায়েদের কোমরে জলের পাত্র—এ দৃশ্য সেখানে প্রতিদিনের। একটু পানির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতে হয়। কখনো ছড়ার স্রোত শুকিয়ে গেলে জীবন যেন থমকে দাঁড়ায়।
তবুও তাদের এই জীবনেও আনন্দের দিন আসে—প্রতিটি বৃহস্পতিবার। কারণ এই দিনেই তারা সংগৃহীত ফসল বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়। কাঁধে ফসলের ঝুড়ি, পায়ে পাহাড়ি পথ—বৃহস্পতিবারের সূর্য তাদের কাছে যেন একটুখানি আশার বার্তা বয়ে আনে। বিক্রির টাকায় সংসারের প্রয়োজন মেটে; সেই টাকায় কখনো আসে এক মুঠো লবণ, কখনো একটি খাতা, কখনো বা শিশুর মুখে একটুখানি হাসি।
চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুর রহমান বলেন, "এলাকাটি খুবই দুর্গম, এখানে বিদ্যুৎসহ কোনো নাগরিক সুবিধা নেই। পানির ব্যবস্থাটাও খুবই দুরূহ। ১৯৮৬ সাল থেকে তারা এখানে বসবাস করছে। এই ত্রিপুরা পল্লীর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা যতটুকু সম্ভব সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব। সরকারি ভাবে যা করার করবো আমরা।"
উপজেলা প্রকৌশলী আসিফ মোহাম্মদ বলেন, "আলো নেই, পানি নেই, যোগাযোগ নেই—তবুও মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম আছে, আছে স্বপ্ন দেখার সাহস। সমস্যা সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে কাজ করা হচ্ছে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন